ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মসজিদের ইমামকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
মার্চ ৪, ২০২৬ ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ জাকের হোসেন
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর হাতিয়ায় তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে এক ইমামকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা আহত ইমামকে উদ্ধার করে রাতেই হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১০টার দিকে চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামের হাজী রগবত আলী জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইমাম রবিয়ল হোসেন একই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছেন।

জানা যায়, রবিয়ল হোসেন সংসদ নির্বাচনে শাপলা প্রতীকের প্রার্থীর একজন সমর্থক ছিলেন এবং তার বিজয়ের জন্য দুই খতম কোরআন মানত করেন। বিষয়টি ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা কয়েকবার তাকে মারধরের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

ঘটনার দিন ইমাম রবিয়ল হোসেন যথারীতি তারাবির নামাজে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পুনরায় মসজিদে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা ইমামের কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে বেদম মারধর করে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর পিতা মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, রুবেল, বাবুল, ওসমান, সুমন, মিরাজ, আকরাম, শাখাওয়াত, শাহারাজ ও আশরাফসহ কয়েকজন আমার ছেলের ওপর হামলা চালায়। সে এনসিপি সমর্থক হওয়ায় মসজিদ থেকে টেনে বের করে তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল এবং মসজিদের কিছু টাকা-পয়সাও নিয়ে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে না এলে আমার ছেলেকে হয়তো প্রাণে মেরে ফেলত।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত রুবেল চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। বাকীরা সবাই আগে আওয়ামীলগ করলেও বর্তমানে সবাই বিএনপির সাথে জড়িত। আমি প্রশাসনের নিকট এ ঘটনার বিচার চাই।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার রবিয়ল ইসলাম জানান, আহতের পিঠ, পায়ের গোড়ালি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

আহত ইমামকে দেখতে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও তার লোকজন পুরো হাতিয়ায় এক সন্ত্রাসী তান্ডব শুরু করেছে। সন্ত্রাসী হামলা করে মানুষের উপর ঝাল মেটাচ্ছে। মানুষ কেহ কারো জন্য দোয়া করুক এ সন্ত্রাসীরা তাও সহ্য করতে পারে না। একজন মানুষ আমার জন্য কোরআন খতম মানছে দোয়া করছে সেজন্য মসজিদ থেকে টেনে বের করে কিরকম আঘাত করেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি যেন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দিয়ে তদন্ত করে এর বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আমি আহত মসজিদের ইমামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি এবং তার পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছি। ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদলের রুবেলকে পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার সন্ত্রাস পছন্দ করেন না। যেই শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করবে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Don`t copy text!