ভারত শাসিত শ্রীনগরে কাশ্মীর প্রেসক্লাবের দখল নিলো রাজ্য প্রশাসন। অভিযোগ, গত ১৫ জানুয়ারি কিছু সাংবাদিক জোর করে ক্লাবে ঢোকে এবং একটা অস্থায়ী কার্যকরী কমিটির ঘোষণা দেয়।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, এটা হলো স্টেট স্পনসরড ক্যু। দিল্লির জাতীয় প্রেসক্লাব এবং এডিটরস গিল্ড এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে রাজ্য প্রশাসন ক্লাবের দখল নিয়েছে বলে ১৭ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন উল্লেখ করে, কাশ্মীর প্রেসক্লাব আর নথিভুক্ত সংগঠন নয়। এর কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ২০২১ সালের ১৪ জুলাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। সোসাইটিজ অব রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে ক্লাবটি নথিভুক্ত করা হয়নি। নতুন কার্যকরী কমিটির জন্য নির্বাচনও হয়নি। ক্লাবের কয়েকজন সদস্য বেশ কিছু ক্ষেত্রে বেআইনি কার্যকলাপ করেছে বলে পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বন্ধ করার পর প্রেসক্লাবকে আইন অনুসারে নথিভুক্ত করতে বলা হয়। তারা সেই আবেদন করে। এরপর গত ২৯ ডিসেম্বর এবং ১৪ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার অব সোসাইটিজ জানায়, কয়েকজন সদস্য নিয়ে পুলিশের বিরূপ রিপোর্ট থাকায় সংগঠনটিকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে কাশ্মীর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইশফাক তান্ত্রে বলেন, প্রশাসনের আসল উদ্দেশ্য ছিল প্রেসক্লাব বন্ধ করে দেওয়া। তাই তারা জোর করে ক্লাবে ঢোকে। এভাবেই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে প্রশাসন। কাশ্মীর প্রেসক্লাব ছিল উপত্যকার সাংবাদিকদের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন সংস্থা। সাংবাদিকরাও যথেষ্ট পেশাদার এবং দক্ষ। তারা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবে।
এদিকে কাশ্মীর প্রেসক্লাবের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দিল্লি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গৌতম লাহিড়ী। তিনি বলেন, এটা ঠিক আগের কমিটি নির্বাচন করছিল না। আমাদের আবেদন, সাংবাদিকদের ক্লাবের বিষয়ে সরকার যেন হস্তক্ষেপ না করে। ক্লাব দখল করা, রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা ঠিক নয়। এটা নিন্দনীয়। সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক।

