যীশু সেন, চট্টগ্রাম:
গত ১০ মে, রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে ‘সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। দেশের খ্যাতিমান শিল্পী, সঙ্গীতানুরাগী এবং সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখরিত মিলনায়তনটি সুর, তাল ও লয়ের অনুপম মূর্ছনায় এক অন্যন্য উচ্চতায় রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুখ্য বাদ্যযন্ত্রী অনুপম বিশ্বাস। উদ্বোধনী পর্বের পর সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা বাঁশি, দোতারা, বেহালা, ইউকিলিল ও কণ্ঠ সঙ্গীতের সমন্বয়ে ত্রিতালে রাগ ভূপালীতে একটি মনোমুগ্ধকর অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন।
অর্কেস্ট্রায় অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন— জবাশ্রী দাশগুপ্ত, দীপঙ্কর বড়ুয়া, হৃদিতা দাশ (পূজা), কমলিনী নাথ, নীলরাজ নাথ, রাশী দাশ, দিঘী মজুমদার, উর্বশী দে, সঙ্গীতা মহাজন, পূজা দাশ, অনুষ্ক দে, জিশু দেবনাথ, অভিজিৎ আচার্য, রনি দে, রাইমা দাশ, দুর্লভ দাশ, সীমান্ত দাশ, প্রশান্ত দাশ, শামীম হোসাইন, হৃদয় দাশ, অর্চিতা দাশ, আনোয়ার হোসেন, প্রান্ত ধর, তমাল মজুমদার, প্রেরণা আচার্য, সঞ্জিত রায় ও প্রসেনজিৎ নাথ। এ সময় তবলা সহযোগিতায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী। পুরো অর্কেস্ট্রাটি পরিচালনা করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির পরিচালক শিল্পী সুমন কুমার নাথ।
পরবর্তীতে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী টিটু কুমার দাশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য নীড অ্যাপারেলস (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী রণধীর দাশ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাচিক শিল্পী অদিতি সাহা।
সাংস্কৃতিক পর্বের দ্বিতীয় ভাগে ঢাকা থেকে আগত ‘বেসিক একাডেমি অব যোগিক অ্যাকোস্টিক ট্র্যাডিশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস’ (BAYATI) রাগ দেশ-এর ওপর দোতারায় একটি চমৎকার অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।
এরপর দরবারি রাগে একক খেয়াল পরিবেশন করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রিষু তালুকদার। তাঁর সাথে তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী এবং হারমোনিয়ামে শিল্পী বিজয় দেবনাথ। তানপুরায় সহযোগিতা করেন শিল্পী হৃদিতা দাশ পূজা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল তরুণ বাঁশীবাদক শিল্পী রাসেল দত্তের চমৎকার বাঁশি পরিবেশনা। তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন শিল্পী সানি দে এবং তানপুরায় ছিলেন আরাধ্যা দাশ। সবশেষে তিনি একটি মধুর কীর্তন ধুন পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতাদের ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ওপার বাংলা (ভারত) থেকে আগত আমন্ত্রিত শিল্পী বাবুসোনা বসু তাঁর চতুরঙ্গী পরিবেশনার মাধ্যমে মিলনায়তনে এক জাদুকরী আবহ তৈরি করেন। তিনি প্রথমে বিলম্বিত ত্রিতালে এবং পরে দ্রুত লয়ে রাগ ‘যোগ’ পরিবেশন করেন। এ সময় তাঁর সাথে তবলা সঙ্গতে ছিলেন সমীর আচার্য। পরিশেষে কাফি রাগে একটি মিষ্টি ধুন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই সফল শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

