শরিফুল ইসলাম শফিক,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুজ্জামান কামরুলের আকস্মিক পরিদর্শনে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তালাবদ্ধ এবং শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকার ঘটনা ঘটেছে। এ প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে ১২ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
গত ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এমপি কামরুল। পরিদর্শনকালে তিনটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের দেখা না পেয়ে এবং বিদ্যালয়গুলো তালাবদ্ধ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মুঠোফোনে বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করলে শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেন।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল অনুপস্থিত শিক্ষকদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,
”আমাদের হাওরাঞ্চল শিক্ষা ক্ষেত্রে এমনেই অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত আপত্তিকর ও অস্বাভাবিক। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি শিক্ষকদের এ ধরনের অবহেলা পরিহার করে কর্মক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌনে ১০টার দিকে দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সকাল ১০টার দিকে কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান এমপি কামরুল। সে সময় বিদ্যালয়গুলোতে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পরীক্ষা চলার কথা থাকলেও তিনি বিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ পান। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ মোট ১২ জন শিক্ষকই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুপস্থিত ও শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন:
- আবিদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দ্বীপা রানী তালুকদার, সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তার, রাজীব চন্দ্র রায় ও রুবেল তালুকদার।
- দুগনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষক মনি রানী রায়, সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার, মানিক সরকার ও রনবীর সরকার।
- কায়েতকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: প্রধান শিক্ষক রমা স্যানাল, সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার পাল, জলি রানী সরকার ও স্মৃতি দে।
এছাড়া, ওই দিন এমপি কামরুল মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এমপি স্যার স্কুল পরিদর্শনের সময়ই আমাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্কুল পরিদর্শন শেষে এমপি কামরুল সাংবাদিকদের জানান, হাওরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে হবে। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

