সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তুল এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপির স্থানীয় নেতা হোসেন আলীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন আহত হোসেন আলীর স্ত্রী শাকিলা আমান তুলি। এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাকিলা আমান তুলি জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে রোকন, মাসুদ, মামুন, আব্দুল্লাহ ও মো. আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন।
তিনি আরও জানান, বাধা দিতে গেলে তার স্বামী হোসেন আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, হাত ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের জখম হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার পেটে ২২টি, মাথায় ৮টি, পিঠে ২টি ও হাতে ৬টি সেলাই দিয়েছেন।
হামলার পেছনের কারণ হিসেবে পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধের কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মসজিদের চাঁদা তোলা ও স্থানীয় একটি কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করা হলেও সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আলীর ছোট ভাই রবিন মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

