মোঃ হামিদুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামের দুঃখিনী রাবেয়ার বসতভিটা গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে হঠাৎ তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরের জায়গায় আশ্রিত রাবেয়া তার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এক ছেলে, ছেলের বউ ও তিনটি অবুঝ নাতি-নাতনিকে নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরে অন্যের জায়গায় ছোট্ট একটি টিনের চালা নির্মাণ করে তিনি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন শুরু করেন।
রাবেয়া বেগমের ঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি রাজারহাট উপজেলার মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের দৃষ্টিগোচর হলে আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি অসহায় রাবেয়া বেগমকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারের সহায়তার জন্য রাবেয়া বেগমের হাতে খাদ্যসামগ্রী, বস্ত্র ও আর্থিক অনুদানের একটি চেক হস্তান্তর করেন।
গত বুধবার বিকালের ওই ভাঙনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই রাবেয়া বেগমের বসতভিটার সম্পূর্ণ অংশসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নদীর স্রোতে ভেসে যায়। হাঁস-মুরগি ও ছাগল হারিয়ে পরিবারটি চরম মহাবিপদে দিনাতিপাত করছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও তানজিলা তাসনিম জানান, জরুরি ভিত্তিতে রাবেয়া বেগমকে আর্থিক অনুদান, খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারি জমিতে ভূমিহীন রাবেয়ার পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে, যাতে তিনি ও তাঁর পরিবার নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারেন।

