মোঃ হামিদুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ক্রয় রসিদ (রিসিভ) ছাড়া সার পরিবহনের সময় এক কৃষক ও ক্ষুদ্র সার ব্যবসায়ীর ৭ বস্তা সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা সারের মধ্যে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ সার রয়েছে। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বাগভান্ডার ক্যাম্পের (লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবি) সামনে দিয়ে সার পরিবহনের সময় এই ঘটনা ঘটে, যা শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর ছেলে মাইদুল ইসলাম প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করার পাশাপাশি মইদাম বাজারে সার ও কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করেন। নিজ জমিতে প্রয়োগের জন্য স্থানীয়ভাবে সার না পেয়ে তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার এক আত্মীয়ের দোকান থেকে ৫ বস্তা ইউরিয়া ও ২ বস্তা পটাশ সার সংগ্রহ করেন। পরে ওই সার নিয়ে ভূরুঙ্গামারীর দিকে ফেরার পথে বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে তাকে আটক করা হয়। সার ক্রয়ের বৈধ রসিদ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা ৭ বস্তা সার জব্দ করেন। এ বিষয়ে মাইদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাথরডুবি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মাইদুল একজন প্রকৃত কৃষক এবং তার ছোট পরিসরে সার ও কীটনাশকের দোকান রয়েছে। ১৫ বিঘা জমি আবাদ করার জন্য সে নাগেশ্বরীর এক আত্মীয়ের দোকান থেকে সারগুলো এনেছিল। সার আটকের পর সে জমির কাগজপত্র ও দোকানদারের পরিচয় দিলেও বিজিবি তা ফেরত দেয়নি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন-১৫ বিজিবির বাগভান্ডার ক্যাম্পের সুবেদার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, নিয়মিত টহল চলাকালে ক্যাম্পের সামনের সড়কে সার পরিবহনের সময় বৈধ ক্রয়ের রসিদ না থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক সারগুলো জব্দ করা হয়েছে।
সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬ এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত এলাকা বা নির্দিষ্ট উপজেলার বাইরে বৈধ চালান ও রসিদ ছাড়া সার পরিবহন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। রসিদবিহীন বা অবৈধভাবে পরিবাহিত এই ধরনের সার কালোবাজারি ও পাচারের মাল হিসেবে গণ্য করে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সরাসরি বাজেয়াপ্ত এবং নিলামে বিক্রির স্পষ্ট আইনগত বিধান রয়েছে।

