মো. হামিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০) ও তার স্ত্রী কহিনুর বেগম (২৬)।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
পুলিশ জানায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের শিশু কন্যা আয়েশা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চিলমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার:
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলমের (পিপিএম) তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩০ এপ্রিল নিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ:
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে জানা যায়, ঘটনার দিন আয়েশা প্রতিবেশী কহিনুর বেগমের বাড়িতে খেলতে যায়। সেখানে কহিনুরের ছেলের সঙ্গে খেলার সময় অসাবধানতাবশত একটি কলম দিয়ে আয়েশার চোখে আঘাত লাগে। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটি চিৎকার করতে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরলে একপর্যায়ে শ্বাসরোধে সে মারা যায়। পরে লাশটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয় এবং রাতের আঁধারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
আইনি কার্যক্রম:
শুক্রবার (১ মে) গ্রেফতারকৃতদের কুড়িগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, পুলিশের নিবিড় তদন্তে দ্রুততম সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

