মোঃ মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ গভীর নলকূপে পানি উঠছে না। এতে করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রামগঞ্জে সংকট সবচেয়ে প্রকট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার রামগঞ্জ উপজেলাতেই এই সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রামগঞ্জ পৌর এলাকাসহ উপজেলার প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে অনেকে অগভীর নলকূপ বসালেও তাতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সমাধান।
একই চিত্র বিরাজ করছে রায়পুর, রামগতি, কমলনগর ও সদর উপজেলাতেও। নিরাপদ পানির অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আমাশয়, টাইফয়েড, হাম, বসন্ত ও পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
ভোগান্তির মুখে জনজীবন
সোনাপুর বাজারের ‘বি সাহা সুইটস’-এর পরিচালক সমীর রঞ্জন সাহা জানান, পানির অভাবে আধা কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়ি থেকে প্রতিদিন সকালে ড্রামে করে পানি আনতে হচ্ছে। রামগঞ্জ পৌরসভার পানির প্লান্ট থেকে যে সরবরাহ পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।
টামটা গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন জানান, কয়েক মাস ধরে নলকূপে পানি নেই। ফলে তারা বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে পান করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং রান্নাবান্নাসহ গৃহস্থালির কাজে পুকুরের দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। লক্ষ্মীধর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারাকাত আহমদ খান জানান, বিদ্যালয়ের মোটরে পানি না ওঠায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
সংকটের নেপথ্যে ভূমিকম্প ও ভূপ্রকৃতি
রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রামগঞ্জের সিরুন্দি গ্রামকে কেন্দ্র করে হওয়া ভূমিকম্পের প্রভাবে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ স্তরে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “আগে টামটা এলাকার প্লান্টে ৭ লাখ লিটার পানি তুলতে তিন ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাঁচ ঘণ্টায়ও তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাজীরখিল এলাকায় নতুন একটি পানির প্লান্ট চালু হলে দ্রুতই দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।”
প্রশাসনের আশ্বাস
রামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান, দ্রুতই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নব্য যোগদানকৃত রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “আমি এই উপজেলায় যোগ দিয়েছি মাত্র কয়েক দিন হলো। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

