এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানায় আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানের আপ্যায়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি ভুয়া (ফেক) আইডি থেকে অনুষ্ঠানের আপ্যায়নের ভিডিও পোস্ট করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ১৯ এপ্রিল কটিয়াদী মডেল থানার উদ্যোগে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং নির্মূলে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানার্থে প্যাকেটজাত খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অধিকাংশ অতিথি খাবার নিয়ে চলে যাওয়ার পর, কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ওসির কক্ষে বসে খাবার গ্রহণ করেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে একটি ফেক আইডি থেকে ‘ভাতের হোটেল’ সম্বোধন করে পোস্ট করা হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিরা জানান, একটি সামাজিক ও জনসম্পৃক্ততামূলক অনুষ্ঠানের সৌজন্যমূলক আপ্যায়নকে এভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয়। বিশিষ্টজনদের মতে, বর্তমান ওসি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় কোনো স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশের বক্তব্য:
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযানের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো অসাধু চক্র এই জঘন্য কাজটি করে থাকতে পারে।”
তিনি আরও জানান, ওই ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

