ঢাকাসোমবার , ২০ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমলনগরে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক: মিলছে না ভ্যাকসিন, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী ও গবাদিপশু

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজুল ইসলাম, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

​লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। দেশে কুকুর নিধন নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিবছর জ্যামিতিক হারে বাড়ছে কুকুরের সংখ্যা। এতে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কুকুরের আক্রমণে মানুষ ছাড়াও গবাদিপশু প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হলেও সরকারি হাসপাতালে মিলছে না প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন। ফলে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি ও বাড়তি চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনজীবনে চরম ভোগান্তি

​স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দা এবং রাস্তার যত্রতত্র ৮-১০টি কুকুর দল বেঁধে অবস্থান করে। পথচারী বা মুসল্লিরা ভোরে মসজিদে যাওয়ার সময় প্রায়ই কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। দলবদ্ধ কুকুরের ধাওয়ায় শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে। সুযোগ পেলেই এসব কুকুর গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও ছাগলের বাচ্চা ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অসাধু তৎপরতা

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন এ উপজেলায় অসংখ্য গৃহপালিত পশু কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক সময় চিকিৎসার অভাব বা জলাতঙ্কের ভয়ে আক্রান্ত পশুকে জবাই করে গোপনে মাংস বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট

​উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। আক্রান্তদের চড়া মূল্যে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে অথবা জেলা সদর ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

​হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান তালুকদার বলেন, “বাজারের পাশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব এলাকায় দলবদ্ধ কুকুরের কারণে শিক্ষার্থীরা সব সময় আতঙ্কে থাকে।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

​উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, “হাসপাতালে গবাদিপশুর জন্য জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। প্রতিদিন গড়ে ৩-৪টি আক্রান্ত গরু-ছাগল আনা হলেও আমরা শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারছি।”

​উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বর্তমানে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “সাধারণত সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়। উপজেলায় এ ধরনের কোনো সরকারি পরিকল্পনা এই মুহূর্তে আছে কি না তা আমার জানা নেই।”

​বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা না করা হলে এই অঞ্চলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা।

Don`t copy text!