মো. হামিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। রোববার (০৫ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে প্রকাশ্যে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে অপদস্থমূলক আচরণ করেন তিনি।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। দুপুরের দিকে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন। এসময় দেশ টিভির কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জুয়েল রানা গ্রাহকদের তেলের পরিমাপ সম্পর্কে তথ্য জানতে এসিল্যান্ডকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতেই তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম উপস্থিত জনসাধারণের সামনে দাবি করেন, তিনি সাধারণ কোনো মানুষ নন। সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “ভাই কেন বললেন? সাধারণ মানুষ ভাববে আপনার সাথে আমার স্বজনপ্রীতি রয়েছে। সবাই আমাকেও সাধারণ মানুষ ভাববে।”
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জুয়েল রানা বলেন, “আমি তথ্যের জন্য তাকে ‘ভাই’ বলামাত্রই তিনি চটে যান। মূলত তাকে ‘স্যার’ না বলার কারণেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং জনগণের সামনে আমাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বলতে হবে—এমন কোনো নিয়ম আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করে আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বারবার কল করার কারণ জানতে চেয়ে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলতে সাধারণ মানুষ বাধ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেন ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ-এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে “প্রকাশ্য নিলাম গোপনে বেনামে সারলেন এসিল্যান্ড” শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

