ত্রয়োদশ জাতীয়সংসদ নির্বাচন ঠাকুরগাঁওয়ের ৩ আসনে ২০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার ৩টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার বড় দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও নতুন নিবন্ধিত দলগুলোর প্রার্থীরাও বেশ তৎপর।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর উপজেলা) আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল জেলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন ঠাকুরগাঁও-১। এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পাশাপাশি এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. খাদেমুল ইসলাম। হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই লড়াইকে ঘিরে সদর উপজেলায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈলের একাংশ): লড়াই হবে বহুমুখী। বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৭ জন। এখানে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন, বিএনপির পক্ষে ডা: মো. আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর মাও. মো. আব্দুল হাকিম, জাতীয় পার্টি- নুরুন নাহার বেগম, গণ অধিকার পরিষদ-মো. ফারুক হোসেন, এবি পার্টি-মো. নাহিদ-রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-মোহাম্মদ রেজাউল করিম, স্বতন্ত্র-মো. জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা। বড় জোটগুলোর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নতুন দলগুলো এই আসনে ভোটের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল): প্রার্থীর ছড়াছড়ি-পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ১০ জন প্রার্থী। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির পক্ষে মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, জামায়াতে ইসলামী-মো. মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টি-হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিপিবি-প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম, গণ অধিকার পরিষদ-মো. মামুনুর রশিদ মামুন, ইসলামী আন্দোলন-মো. আল আমিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-এস এম খলিলুর রহমান সরকার, বিএমজেপি-কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-মো. আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র-মোছা. আশা মনি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: স্থানীয় ভোটারদের মতে, ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনগুলোতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। তবে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো নিজেদের ভোটব্যাংক রক্ষায় মরিয়া। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের পর নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারনা করছেন এ সংসদীয় আসনের জনগণ।

