পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের সব কয়টি ধাপে উত্তীর্ণ হলেও প্রশিক্ষণে যোগ দিতে পারেননি সাভারের হাসান। সময় মতো ভূমিহীন সনদ না পাওয়ায় হাত থেকে ফস্কে যায় পুলিশের এ চাকরি।
জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকার বিনোদবাইদ মহল্লায় ভাড়া বাসায় মা বাবার সঙ্গে থাকেন মো. হাসান সিদ্দিকী (২০)। তিনি ধামরাই সরকারি কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। সংসারের হাল ধরতে তিনি এ বছরের পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদের পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখানে অংশ নেওয়ার পর প্রতিটি ধাপেই কৃতকার্য হন। প্রশংসাও কুড়ান অনেকের।
চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুলিশের পক্ষ থেকে মুঠোফোনে কল করে জামা, জুতা, ট্রাউজার ও কেডসের মাপ নেওয়া হয়। এরপর থেকে পুলিশে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত মানসিক প্রস্তুতি নেন হাসান।
কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভূমিহীন সনদ। শত চেষ্টা করেও সময়মতো হাতে নিতে পারেননি ভূমিহীন সনদ। আর যখন হাতে পেয়েছেন তখন সময় শেষ বলে জানিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানেই হাসানের স্বপ্নের ইতি টানতে হয়।
পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদের পরীক্ষায় হাসানের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়া অন্যরা বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণে গেছেন। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণে যেতে পারেননি তিনি। ভূমিহীনদের ভূমিহীন সনদ প্রদর্শনের পরই যেতে হয় প্রশিক্ষণে। কিন্তু সেটা দেখাতে পারেননি হাসান, তাই তাকে ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে।
কেন সময় মতো পাওয়া যায়নি ভূমি সনদ, এমন প্রশ্ন করতেই কেঁদে ফেলেন হাসান। তিনি জানান, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর কাছে সনদের জন্য যান তিনি। কিন্তু ভূমিহীন প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার নিয়ম নেই জানিয়ে তাকে পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার ও মেয়রের কাছে পাঠিয়ে দেন। কমিশনারের কাছ থেকে তিনি প্রত্যায়নপত্র নিলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এরপরই তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ছুটে যান সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তিনি সব শুনে রাতেই তাকে সনদ দেওয়ার কথা জানালে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ হাসানকে ভূমিহীন প্রত্যয়নপত্র দেন। ততক্ষণে সময় শেষ। সোনার হরিণ চাকরিটা অধরাই থেকে যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ভূমিহীনরা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছ থেকে সনদ দিলেই তাদের নিয়ে নিয়েছি। কিন্তু হাসান সিদ্দিকী এ ধরনের কোনো সনদ দেখাতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী তাকে সুযোগ দিতে পারিনি।
তবে এমন সুযোগ ফিরে পেতে মানবিক আবেদন করেন হাসান ও তার পরিবার। তারা বলেন, অভাবের সংসারে এমন চাকরির খবরটি ছিল খুবই আনন্দের। যেহেতু শুধু একটি সনদ সময়মতো জমা না দিতে পারাই ছিলো বাধা, তাই মানবিক বিচারে তা পূর্ণবিবেচনায় দেখার আহ্বান করেন সরকার ও পুলিশ কর্তাদের কাছে।

