মাংসের দোকানে একটা তাগড়া জোয়ান ষাঁড়কে, কসাই জবাই করতে গেল। প্রাণ বাঁচাতে ষাঁড়টা কসাইকে এমন গুঁতো মারল – কসাই বহুদূরে ছিটকে গেল। তাই না দেখে, এক প্রবীণ ও বিজ্ঞ ছাগল দেহের সর্ব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে – অন্য ছাগলগুলোকে বলল, দেখেছিস ষাঁড়টার নৃশংসতা!
দেহে শক্তি আছে, তাই বলে কসাই মহোদয়কে এত নির্মম ভাবে আঘাত করবে! ইস্ কসাই মহোদয় কি ব্যথাই না পেয়েছে! এই জঘন্য হিংসা বরদাস্ত করা যায় না। আয়, সবাই মিলে ষাঁড়টাকে ঘায়েল করি, যাতে কসাই মহোদয় আরামসে ওকে জবাই করতে পারে।
এই মাংসের দোকানে হিংসা-বিদ্বেষের কোন স্থান নেই ; কসাই মহোদয় একা – সংখ্যালঘু, তবুও তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। ছাগলগুলো মিলে ষাঁড়টাকে ভীম-বিক্রমে আক্রমণ করল।
ষাঁড়টা বললো, করছিস কী তোরা। আমাকে জবাই করার পর, তোদেরকেও তো ও জবাই করবে!
বিজ্ঞ ছাগলপতি বলল, বর্বর ষাঁড় তুই চরম সাম্প্রদায়িক! সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে তুই আমাদের বিভ্রান্ত করছিস। এই মাংসের দোকানে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নাই। প্রত্যেকের ন্যায় সঙ্গত অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য।
বিজ্ঞ ছাগলপতির নেতৃত্বে, সবগুলো ছাগল এক-কাট্টা হয়ে, দীর্ঘ লড়াই শেষে ষাঁড়টাকে কাবু করে ফেলে, কসাইয়ের হাতে তুলে দিল। ষাঁড়টাকে জবাই করার পর, কসাই হাসতে হাসতে বিজ্ঞ ছাগলপতির গলায় চাপাতি চালাল। ছাগলপতি চোখের জল ছেড়ে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেবল ভ্যাঁ একটা চিৎকার করার সুযোগ পেল….
ভারতে হিন্দু নামধারী সেক্যুলারদের আহাম্মকি, বিজ্ঞ ছাগলপতিকে-ও কী হার মানায় না! ওরা আজ কাদের দালালি করেছে! ওরা কী মধ্যযুগের ইতিহাস পড়ে নি ?
কিংবা ওরা কী দেখে নি – কাশ্মীরে, নর্থইস্ট-এ, পূর্ব বঙ্গের সংখ্যালঘু হিন্দুদের কিভাবে জবাই করা হয়েছে এবং হচ্ছে অবিরত! ক’দিন পরে ওরা যে নিজেরা-ও যে জবাই হতে চলছে – সেই বোধোদয় ওদের কবে হবে??
বর্তমান পশ্চিমবাংলার পরিস্থিতির কসাই মহোদয়ের মত। কসাইয়ের বিরুদ্ধে যেতে প্রতিবাদ করছে ছাগল প্রতিরা তাকে কসাইর হাতে তুলে দিচ্ছে, কিন্তু ছাগল পতিরা এটা কখনো চিন্তা করে না যে ষাঁড়ের পরে যে ওদের পালা।
এস ডি স্বপন
লেখক

