শফিকুল ইসলাম শফিক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রহমত আলী। দলের দুর্দিনে রাজপথের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে ঘিরে সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই তাঁকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহমত আলী বলেন, “ধর্মপাশার মাটি আমার মায়ের মতো পবিত্র, এই মানুষগুলো আমার পরিবার। দলের দুঃসময়ে রাজপথ ছেড়ে যাইনি। পুলিশের লাঠি-গুলি, কারাগারের অন্ধকার—সবই দেখেছি। তবুও আদর্শ থেকে সরে যাইনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে জনসেবা, ক্ষমতার মোহ নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে রাস্তায় বের হলে মায়েরা এসে শান্তি চান, কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য চান এবং বেকার যুবকরা কাজের সুযোগ চান। এই মানুষগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষা আমাকে প্রতিরাতেই ভাবায়। অনেকেই আমাকে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিইনি, তবে আপনাদের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।”
নির্বাচনে সুযোগ পেলে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রহমত আলী বলেন, “আল্লাহর রহমত এবং আপনারা যদি সুযোগ দেন, আমি কথা দিচ্ছি—ধর্মপাশার প্রতিটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন করব। কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, বিধবা ও এতিম অবহেলিত থাকবে না। জনগণের টাকার একটি পয়সাও দুর্নীতি হতে দেব না; সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় একটি বৈষম্যহীন ধর্মপাশা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছি। সবার কাছে দোয়া চাই। পরিশেষে বলব, জনগণের রায়ই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
স্থানীয়রা জানান, রহমত আলী সব সময় মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। তিনি একজন সৎ, পরীক্ষিত ও জনবান্ধব নেতা। এমন একজনকেই তাঁরা উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে দেখতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ, রাজপথের আন্দোলন এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে আসন্ন নির্বাচনে রহমত আলী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।

