মো: আতাউর রহমান সরকার (মতলব উত্তর প্রতিনিধি
মতলব উত্তর উপজেলায় গবাদিপশুর মরণঘাতী ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) বর্তমানে এক ভয়াবহ মহামারীর রূপ নিয়েছে, যার ফলে উপজেলার একের পর এক খামারি নিঃস্ব হয়ে পথে বসছেন। আজ সোমবার গজরা ইউনিয়নের খাককান্দা গ্রামে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন প্রান্তিক খামারি হোসনেয়ারা বেগমের আসন্ন কোরবানির জন্য পরম মমতায় পালন করা প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বিশাল গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে হোসনেয়ারা বেগম এখন দিশেহারা। ভাইরাসের এই তণ্ডব শুধু গজরাতেই সীমাবদ্ধ নেই, ছেংগারচর পৌরসভার ওটারচর গ্রামেও একই শোকের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে এক খামারি পরিবারের একটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গাভী কয়েক দিন আগেই এই রোগে প্রাণ হারিয়েছে এবং একই গ্রামের দরিদ্র অটোচালক কাসেমের বাছুরটিও এই মরণঘাতী ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয় খামারিদের সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের কোওরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শুভ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানিয়েছেন যে, গত ২০ দিন আগে তাদের একটি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গাভী মারা গেছে, যা তাদের পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। একই ধরনের কষ্টের কথা জানিয়েছেন আরেক খামারি আলম নুরী, যার শখের গরুটি কয়েকদিন আগে মারা যাওয়ায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, মশা ও মাছির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গরু প্রথমে প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে এবং সারা শরীরে গুটি গুটি বসন্তের মতো ক্ষত তৈরি হয়ে চামড়া পচে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল ওষুধ এবং চিকিৎসা দিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না, যা প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের জালে আবদ্ধ করে ফেলছে। একের পর এক মূল্যবান পশুর এই মৃত্যুতে পুরো উপজেলায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তা ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছে। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার ডেইরি শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

