বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় আহত এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ:
নিহত ব্যক্তির নাম করিম প্রামাণিক (৬৫) ওরফে হাদু। তিনি উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, করিম প্রামাণিকের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজের মজুরি বাবদ আনোয়ার মোল্লার কাছে তাঁর পাঁচ হাজার টাকা পাওনা ছিল। গত ২১ এপ্রিল রাতে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে শফিকুলকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন আনোয়ার। শফিকুল সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা একদল লোক তাঁকে গাছের ডাল দিয়ে মারধর শুরু করেন।
ছেলের চিৎকার শুনে বাবা করিম প্রামাণিক বাঁচাতে এগিয়ে এলে আনোয়ার মোল্লা তাঁর মাথায় লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় অন্য আসামিরাও হামলায় অংশ নেন।
চিকিৎসা ও মৃত্যু:
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে করিম প্রামাণিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন (২২ এপ্রিল) শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়ে ছাড়পত্র প্রদান করে। তবে বাড়িতে ফেরার পর ওই রাতেই তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আইনি পদক্ষেপ:
এ ঘটনায় নিহতের আরেক ছেলে মো. শাহাদত প্রামাণিক বুধবার রাতে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ার মোল্লাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন জানান, অভিযোগ পাওয়ামাত্রই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা আনোয়ার মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

