স্বপন কুমার রায়, খুলনা ব্যুরো প্রধান:
খুলনায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। দিনের বেলায় ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার পাশাপাশি রাতেও মিলছে না স্বস্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্রাম ও শহরে সমান দুর্ভোগ
খুলনার গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন ও রাতে সমানতালে চলছে বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা। গত তিন দিন ধরে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, দিনে গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, কোনো কোনো এলাকায় তার চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অনেক এলাকায় লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্যান-লাইট ঠিকমতো না চলায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থবির হয়ে পড়ছে অর্থনীতি
বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কল-কারখানার উৎপাদন। বিশেষ করে এ অঞ্চলের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক সপ্তাহের লোডশেডিংয়ে খুলনার চিংড়ি খাতে অন্তত এক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
মহানগরের বাগমারা এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন সুমন বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে আমরা অতিষ্ঠ। তীব্র গরমের মধ্যে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” কয়রা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৫-৬ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। রাতে ভোল্টেজ এতোই কম থাকে যে ফ্যান ঘোরে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।
- ঘাটতির চিত্র: ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) এলাকায় গত তিন দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পল্লী বিদ্যুতে এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ।
- গ্রাহক সংখ্যা: খুলনা নগরে ওজোপাডিকোর গ্রাহক ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৮৬ জন এবং আট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ৪ লাখ ৯৯৫ জন।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, “আমরা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। তবে যেটুকু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, তা গ্রাহকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
জনজীবন ও জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন খুলনাবাসী।

