ঢাকাশুক্রবার , ১৩ মার্চ ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শ্যামনগরে সাংবাদিকতার আড়ালে ‘ছদ্মবেশী’ ইব্রাহিম

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
মার্চ ১৩, ২০২৬ ৫:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক,

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাংবাদিকতার পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক ভয়ংকর অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ইব্রাহিম খলিল (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের পদপ্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দাবি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি। উপজেলার বাধঘাটা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে এই খলিলের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও নারী পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের পাহাড় জমেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিল এক সময় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জগলুল হায়দারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকলেও বর্তমানে ভোল পাল্টে বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন। তিনি নিজেকে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পদপ্রার্থীদের আস্থাভাজন হিসেবে জাহির করে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ঘের মালিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো বা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ ও তথ্যবিহীন সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হচ্ছে।

পরানপুর এলাকার মজিবুর রহমান ও শরিফুল ইসলামসহ অন্তত ২০টি নিরীহ পরিবার দীর্ঘকাল ধরে ২০ বিঘা জমি আইনানুগভাবে ভোগদখল করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, ইব্রাহিম খলিল শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড মো. রাশেদ হোসাইনকে অনৈতিকভাবে ম্যানেজ করে ওই সম্পত্তি দখলের নীল নকশা সাজিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত মালিকদের না জানিয়েই জমির রেকর্ড ও নথিপত্রে কারসাজি করে কয়েক লক্ষ টাকার মাছ ও পৈতৃক সম্পদ হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই প্রতারক।

এলাকাবাসীর দাবি, ইব্রাহিম খলিল মূলত একজন পেশাদার অপরাধী। সীমান্তবর্তী কালিন্দী নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে অন্তত ৮ থেকে ৯টি বিয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নারীদের বিয়ে করা এবং পরবর্তীতে তাদের ফেলে দিয়ে নতুন শিকারে নামা তার পুরনো স্বভাব। স্থানীয়দের ভাষায়, সে একজন পেশাদার ‘নারী কারবারি’ ও পাচারকারী। সে মূলত কৈখালীর বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শ্যামনগরে বাড়ি করে প্রশাসনের সাথে সখ্যতা গড়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

ইব্রাহিম খলিলের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা গাজী শাহ আলমকে টার্গেট করা হয়েছে। শাহ আলম অভিযোগ করেন, “আমি দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, অসংখ্য জেল-জুলুম সহ্য করেছি। অথচ আজ একজন সাংবাদিক নামধারী মাদক কারবারি বিএনপির নেতাদের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আমি প্রতিবাদ করায় সে আমার বিরুদ্ধে তথ্যবিহীন ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রচার করে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে।” শাহ আলম আরও জানান, তিনি এই মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবেন।

শ্যামনগর থানা ও বিভিন্ন দপ্তরে ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষের দাবি, সাংবাদিকতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় স্থানীয় জনগণ এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

Don`t copy text!