মামুন মাহি, ফ্রান্স প্রতিনিধি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
হলটির ছাদ থেকে দেয়াল-তিল ধরবার ঠাঁই নেই। ঢেকে আছে ইউরোপীয় শিল্পকর্মের অসামান্য সব চিত্রকর্মে। আছে পাথরের ভাস্কর্যও। এমন রাজসিক আবহে পালিত হলো বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দিবস।
বৃহস্পতিবারের (৪ ডিসেম্বর) হিমসন্ধ্যায় প্যারিসের ১৬তম আরোনডিসমোর নগরভবনের হলে হয়েছে আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠান। ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস ছিল এর মূলে। নানা আয়োজনে অনুষ্ঠানস্থল কিছুক্ষণের জন্য হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
প্রতিবছর ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী এক সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু করেছিল আক্রমণ। সেই অবদানের প্রতি সম্মান রেখে দিবসটি পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ এবং এরপর ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এসময় উপস্থিত অতিথিরাও কণ্ঠ মেলান সেই সুরে। পরে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র পর্দায় দেখানো হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চের ডানে ছিল লাল-সবুজের পতাকা। বাঁয়ে ছিল নীল-সাদা-লাল জমিনের ফ্রান্সের পতাকাও।
ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। তবে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লার স্বাগত বক্তব্যে।
এসময় তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বগাঁথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তায় বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
আমন্ত্রিত ছিলেন ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা তার বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনী দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশের নানা ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং মানবিক উদ্যোগগুলোর বিষয়টি উল্লেখ করেন।

