প্যারিস থেকে মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন,
২৬ জুন ২০২৫
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে ফ্রান্সের অর্থনীতি কিছুটা চাপে পড়েছে, তবে তা এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে সূত্রমতে জানাগেছে।
যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য বাধার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম $১০০ প্রতি ব্যারেল ছুঁতে পারে বলে সতর্ক করেছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এর ফলে ফ্রান্সসহ ইউরোপে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তেলের দাম বাড়লেও, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফ্রাঁসোয়া ভিলরোয়া দ্য গালো জানিয়েছেন যে, মুদ্রাস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইউরোর শক্তিশালী অবস্থান তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করেছে। তাই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের ট্রাভেল ও লিজার খাতে শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তেলের দাম কমে যাওয়ায় জ্বালানি খাতের শেয়ারমূল্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উচ্চ সরকারি ঋণ অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে ফ্রান্সের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬.১% এবং সরকারি ঋণ জিডিপির ১১৩% পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ইউরোপীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছে।
যুদ্ধের ফলে ফ্রান্সের পরিবহন খাতে প্রভাব পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে। এর ফলে এয়ার ফ্রান্সসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল বা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে, যা ফ্রান্সের বিমান পরিবহন খাতে প্রভাব ফেলেছে।

