বিশ্বে সেরা ধন অমূল রতন
ফুলে ফুলে দেহভার,
ফুলের সৌরভে ভরা পরিমলে
উপমা নাই যে তার।
পৃথিবীর যত গ্রহ তারা স্থিত
রূপে গুণে একাকার,
ত্রিভুবনে যাহা সৃজিয়াছে তাহা
নারী মাঝে সমাহার।
আপন হস্তের নিপুণ ছোঁয়ায়
গড়িল বিধি যতনে,
যত প্রেম সুধা মিটাইতে ক্ষুধা
বিধি দিল তার মনে।
যে নারী দিয়াছে আপন শরীর
দানিয়াছে বাহু বল,
গর্ভে ধরিয়াছে পুরুষের দেয়া
দুই ফোটা তপ্ত জল।
যাতনা সহিয়া দশমাস ধরে
জনম দিয়াছে নর,
সে নর আজি পাখা মেলি বলে
নারীরা হলো যে পর!
নারীরা সংসারে পুরুষের ভোগ্য
নারীরা হয়েছে দাসী,
পিতার ঘরেতে স্বামীর স্বর্গেতে
নারীরাই পরবাসী!
যে নারী দিয়াছে অমরের সুধা
দিয়াছে তৃষ্ণার জল,
সে নারী দিয়াছে প্রেম ভালোবাসা যুদ্ধে লড়িবার বল।
পুরুষের ক্ষুধা নাশিবার লাগি
নারী দিল সুধা ঢালি,
পিয়ে প্রেম সুধা মিটে যম ক্ষুধা
তবু শুনে নারী গালি।
যে কহে ভবেতে রমনীরা পাপী
নারী হয় শয়তান,
আমি বলি তারে-সেই শয়তান
নিজেই তার প্রমাণ।
রাবণ হরিল কামনার বলে
অযোধ্যার সতী নারী,
দ্রৌপদীর অঙ্গ দিখিবারে ভন্ড
টেনে টেনে খুলে শাড়ি।
পারেনি তো তাহা দুর্যোধন তারা
সে শয়তানের দল,
কেঁদেছিল নারী দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ি
ফেলে ছিল আঁখি জল।
বুঝেনি সেদিন পাষণ্ডের দল
মহাপাপী শয়তান,
অবলার সাথে পুরুষ সভাতে
দেয়নি তো তাঁর মান!
সে পরুষ বলে নারী নিলো তলে
যত পুরুষের দল,
আমি বলি তারে পাপে বোঝা ভরে
নিজে গেলো রসাতল।
নারী লোভী যেই ধন লোভী যেই
নরকের কীট সেই,
তার পাপে ধরা হীন অন্তক্ষরা
পুকুরেতে রুই নেই।
গোপনে গমন করিয়া রমণ
বলে যে রমণী পাপী,
রমণীর রূপে অর্ধ মরা হয়ে
খুলে দেয় অর্থ ঝাঁপি।
সে তো মহাপাপী লোভ দোষে তাপী
বলে গেছে যোগী ঋষি,
সৎ সতী যারা বাঁচে নাই তারা
পাপী তাপী সঙ্গে মিশি।
পুরুষের কাম ধরে নারী দাম
কামনার কৃতদাসী,
যন্ত্রণা সহিয়া অশ্রুতে ভাসিয়া
নারী বলে ভালোবাসি!
রাতের আঁধারে চুমিলে যাহার
রঞ্জিত চরণ দুটি,
দিনের আলোতে দশের সভাতে
চেপে ধরে তার টুটি!
খুঁজে মরে ঘুরে সতী কোন দূরে
করিব সঙ্গী তাহারে,
বস্ত্র আবরণে ঢাকিব তাহারে
যত্নে রাখিব বাহারে।
পাপেরে বধিতে নারী দিল মান,
দিল দেহে সুধা ঢালি,
তবু বুঝি নারী নরকের দ্বার
খুঁজে পেলে বনমালী ?
যে তোমারে আজি অমর করিল
মন প্রাণে ভালোবাসি,
বদন ভরিয়া তারেই বলিছ
সে আমার কৃতদাসী!
হায়রে রমণ! ভাবনা শমন
কয়দিন রবে ভবে,
মরিতেই হবে আগে আর পরে
চলে যেতে হবে সবে!

