বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলীতে নিম্নমানের ইট ও খোয়া দিয়ে সড়ক পাকাকরণের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের একটি সড়কে এই ঘটনা ঘটে।
প্রকল্পের বিবরণ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ঈশ্বরপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শাজাহানপুর এলাকার ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মাঠ পর্যায়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মোশারফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে ১ নম্বর ইট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও মঙ্গলবার ঠিকাদারের লোকজন ২ নম্বর ও ৩ নম্বর মানের নিম্নমানের ইট এবং খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এলজিইডি অফিসের যথাযথ নজরদারি না থাকায় ঠিকাদার এমন অনিয়ম করার সাহস পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোশারফ হোসেন মুঠোফোনে জানান, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় কাজে কিছুটা ত্রুটি হয়েছে। এখন থেকে ১ নম্বর ইট দিয়েই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সাজেদুর রহমান জানান, “সোমবার আমাদের উপস্থিতিতে মানসম্মত কাজ হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরে অফিসের লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেন। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।”
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবস্থান
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বগুড়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ না করে যথাযথ মান বজায় রেখে যেন সড়কটি পুনরায় সংস্কার করা হয়।

