মোহাম্মদ মাসুদ রানা, নীলফামারী প্রতিনিধি,
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি চাঁদাবাজ চক্রের একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানাধীন পৌর এলাকার বড় মাঠের পূর্ব পাশে ভুক্তভোগী তাপস রায় (২২) তার স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্মানহানির হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এমন ঘটনার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মামুন শেখ ওরফে জঙ্গী মামুন ওরফে ভাইরাল মামুন (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বড় মাঠ এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
গৃহীত ব্যবস্থা
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় মামলা নম্বর-৪২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬ খ্রি., জিআর নং-৪২/২০২৬ রুজু করা হয়েছে। মামলায় পেনাল কোডের ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী) এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৫(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

