আজ ১৪ই জুন। কথাশিল্পী কায়েস আহমেদের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতিবছর এই দিনটিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে লাইভ প্রোগ্রাম, আলোচনা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে। কায়েস আহমেদ বাংলাদেশের একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী। তাঁর জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৫ মার্চ; পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার শ্রীরামপুর থানার বড়তাজপুর গ্রামে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়ো। তাঁর মাতার নাম ওলিউন্নেসা, পিতার নাম শেখ কামাল উদ্দীন আহমেদ। দেশভাগ ও পিতার চাকরিবদলের সূত্রে তাঁর পরিবার ঢাকায় আগমন করে এবং বসবাস আরম্ভ করে। কায়েস আহমেদ ১৯৬৪ সালে ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৮ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন; অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগে ভর্তি হন। বাবার মৃত্যুতে শোকাহত কায়েস আহমেদ অনার্স শেষবর্ষে থাকা অবস্থায় তাঁর পড়ায় ছেদ পড়ে।
কলেজে আই.এ পড়ার সময় তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ‘পূর্বদেশ’- পত্রিকায়। কায়েস আহমেদ ছিলেন প্রচণ্ড জীবনবাদী লেখক। তিনি বলতেন সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের জীবন। জীবনের কোন ঘাত, প্রতিঘাত, বেদনা কখনোই জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না। আজ যা মনে হয় দুঃসহ কিছুতেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বছর ঘুরুক নিজেরই হাসি পাবে এর জন্য এত কষ্ট পেয়েছি আমি। মহাকাল সব মিলিয়ে দেয়। তাঁর সংক্ষিপ্ত সময়ে তিনি রেখে গেছেন-
অন্ধ তীরন্দাজ (১৯৭৮) দিনযাপন (১৯৮৬) নির্বাসিত একজন (১৯৮৬) লাশকাটা ঘর (১৯৮৭) ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
দৈনিক ‘গণকন্ঠ’ ও ‘সংবাদ’-এ তিনি সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে কায়েস আহমেদের আজীবন পেশা ছিল শিক্ষকতা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে বাংলার শিক্ষক ছিলেন। বিয়ে করেন ১৯৮৩ সালে। একমাত্র পুত্রের নাম অনীক আহমেদ। ১৯৯০ সালে তিনি হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন। কায়েস আহমেদ ১৪ জুন, ১৯৯২ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

