সিনেমা সমাজের আয়না
সিনেমা হলো সমাজ গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ কারিগর। কীভাবে তা সম্ভব হতে পারে? মানুষ মনে করে, একটি সমাজ কোন দিকে ধাবিত হবে, তা নির্ধারণে সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদি বলা হয়—হ্যাঁ, অবশ্যই পারে। সিনেমা সরাসরি কথা বলে না, কিন্তু সিনেমা মানুষের হয়ে কথা বলে, মানুষকে কথা বলতে শেখায়। এটি সমাজকে কুসংস্কৃতি, দুশ্চিন্তা ও অসচেতনতা থেকে দূরে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
বর্তমান তরুণ সমাজের মধ্যে সিনেমা দেখার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এবং এটি একটি বার্তা বহন করে।সেই বার্তা টি হলো সব সিনেমা কিন্তু ভালো ফল বয়ে নিয়ে আসে না। আলোর সাথে যেমন অন্ধকার তেমনি ভালো সিনেমার সাথে থাকে খারাপ সিনেমা ও ।ভালো সিনেমা আমরা পরিবার-পরিজন,শিশু সবাইকে নিয়ে নিজ সাধ্য মতো উপভোগ করতে পারি।
তবে বর্তমানে খারাপ সিনেমার সংখ্যা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।এদিক আমাদের বুঝতে হবে খারাপ সিনেমা বলতে কি বুঝায়?সর্বোপরি খারাপ বিষয় নিয়ে সিনেমা নির্মাণ কে খারাপ সিনেমা বলা যায় আবার বিদ্বেষ ছড়ানো মূলক বিষয়াদি নিয়ে নির্মিত সিনেমা ও খারাপ সিনেমার তালিকাভুক্ত।বর্তমান অনেক সিনেমা তেই নারী বিদ্বেষমূলক দৃশ্য, সংলাপ, রক্তপাত, অতিরিক্ত মারামারির দৃশ্য, অবাধ মাদক গ্রহণ এবং তথাকথিত “সিগমা মেল/ফিমেল” চরিত্রগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামাজিক শিক্ষণ তত্ত্ব (social learning theory) অনুযায়ী মানুষ তার আশপাশের আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং অনকরণের মাধ্যমে শিখে।বিশেষ করে শিশু / কিশোর এরা অনুকরণ করে থাকে ।ALBERT BANDURA’ কর্তৃক আয়োজিত “Bobo Doll Experiment” – এ দেখা যায় ,শিশুরা পর্দায় দেখা আক্রমণাত্মক আচরণ অনুকরণ করে বাস্তবেও প্রকাশ করে। এছাড়াও দেখা যায় ,যদি কোনো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ বা সহিংস মূলক সিনেমা দেখে তাহলে তার কাছে মনে হতে থেকে , সহিংসতা সমাজে একটি স্বাভাবিক বিষয়।গবেষণা বলছে, নিয়মিত সহিংস মিডিয়া দেখার ফলে মানুষের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব, সহিংস আচরণ ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ধীরে ধীরে তারা সহিংসতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। তাই অনেক গবেষক মনে করেন, খারাপ ও বিদ্বেষমূলক সিনেমা সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির একটি প্রভাবক বা অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে, বিশেষত যখন এর সাথে পারিবারিক অবহেলা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অস্থিরতা যুক্ত হয়।
পরিশেষে এ বলা যায়,সিনেমা শুধুই বিনোদন মাধ্যম না ,এটি আমাদের সমাজ এর আয়না. সুস্থ সংস্কৃতি ও সচেতন সমাজ গঠনে ইতিবাচক ও শিক্ষামূলক সিনেমার বিকল্প নেই।
লেখক: সাজেদা বিনতে হান্নান
সহলেখক: মোহাম্মদ মাহেদি হাসান প্রান্ত

