ঢাকাবুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝাটকা সংরক্ষণে ব্যর্থতায় মেঘনায় ইলিশ সংকট: বেকার সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
জুলাই ২৯, ২০২৬ ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজুল ইসলাম, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

জুলাই মাস এলেই চাঁদপুরের ষাটনল থেকে আলেকজান্ডার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীজুড়ে দেখা মিলত ইলিশের উৎসব। নদীতে হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা, আড়তে মণে মণে ইলিশের বেচাকেনা আর ক্রেতার ভিড়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা। তবে এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য আর নেই। ভরা মৌসুমেও মেঘনা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। ঝাটকা সংরক্ষণে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস মাছ ধরা বন্ধের সরকারি অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।

​জানা যায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর মার্চ-এপ্রিলে রামগতি-কমলনগরের মেঘনায় অভিযানের নামে নদীতে হরিলুট হয়েছে। অসাধু লোকজন অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিচারে জাটকা ইলিশ নিধন করেছে। অভিযানে উপজেলা প্রশাসন সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ভরা মৌসুমে এখন নদী ইলিশশূন্য। এদিকে কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা দাবি করছেন, মাঝ নদীতে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে আগের মতো এদিকে ইলিশ আসতে পারছে না।

​জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দুই মাস দেশের নির্দিষ্ট অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই সময়ে মাছ আহরণ, পরিবহন ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। এই দুই মাস বেকার থাকা নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাল সহায়তা প্রদান করে থাকে। কিন্তু এ বছর স্থানীয় কিছু অসাধু লোক ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার কারণে সরকারের এ উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।

​ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে সম্প্রতি চাঁদপুরে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর বিশেষজ্ঞরা প্রথমে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাতাব্বরহাট মাছ ঘাটের এক আড়তদার অভিযোগ করে বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে এ বছর নদীতে নামমাত্র অভিযান হয়েছে। এসব কারণেও মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।’

​স্থানীয় জেলেরা জানান, দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না। অনেক সময় ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে জেলেদের। মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে যে অল্প ইলিশ আসছে, তার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

​লক্ষ্মীপুর জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, মাঝ নদীতে জেগে ওঠা ডুবোচরগুলোর কারণে এসব অঞ্চলে ইলিশ উৎপাদন কমে গেছে। জাটকা সংরক্ষণের সময় অবাধে মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তখন তো আমি ছিলাম না, এ বিষয়ে আমার ধারণা নেই।

​বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকারের দেওয়া অভিযান সফল না হলে পরবর্তীতে ইলিশ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। এ ছাড়া আমাদের গবেষণায় উঠে আসছে—নদীতে যত্রতত্র বালু উত্তোলন, অবৈধ জালসহ মনুষ্যসৃষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অপব্যবহারের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। আবার নদীতে ডুবোচর, সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সাগর থেকে নোনাজল আসার বাধা এবং প্রাকৃতিক বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ইলিশের উৎপাদন কমে গেছে।

Don`t copy text!