ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ইতিহাস

প্রতিবেদক
admin
এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অধিকার অনলাইন ডেক্স:

পশ্চিম পাকিস্তানে ৪টি পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিলে পূর্বপাকিস্তান তথা বাংলাদেশীদের চাপে বাংলাদেশও একটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬২-১৯৬৩ সালে রূপপুরে ২৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
কিন্তু দুঃখজনক বিষয় তার পরপরই এই প্রকল্পের বাজেট পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের করাচিতে স্থানান্তর করা হয় যার নাম ” করাচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র PANUPP”।
প্রকল্প বাজেট স্থানান্তর করলেও কানাডার সাথে দীর্ঘ কয়েকবছর আলোচনার পর করাচিতে ১৯৬৫ সালে কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭১ সালে কাজ শেষ হয়।
বাঙালিরা আবারও প্রতারিত হয়।
কিন্তু ঐ অধিগ্রহণ করা জমি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে তাহলে একদিন এই প্রকল্প সফলতার মুখ দেখবে এই চিন্তা করেছিলেন একজন মানুষ এবং নিভৃতচারী এই মানুষটি সেই কাজটি করে গেছেন, জমিটি রক্ষা করেছেন।
সেই অরাজনৈতিক মানুষটি আর কেউ নন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া যিনি সবসময় নিজেকে আড়ালেই রেখে গেছেন।
অনেকে বলে বহু পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। হ্যাঁ উচ্ছেদ করা হয়েছে কিন্তু তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়নি। তারা এই ২৯২ একর পরিত্যাক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর তুলেছিলো।
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান আমাদের সাথে প্রতারণা করার পর ১৯৭২-১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু রাশিয়ার সাথে আবার আলোচনা শুরু করেন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করার লক্ষ্যে । রাশিয়ার সাথে আলোচনা শুরুর কারণ সহ অন্য বহু কারণে আমেরিকা নাখোশ হয় এবং বঙ্গবন্ধু নিহত হন।
এরপর জিয়াউর রহমান সাহেব ১৯৭৭ সালে আবার উদ্যোগ নেন। ‘মেসার্স সোফরাটম’ কর্তৃক পরিচালিত ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে যৌক্তিকতা যাচাই শুরু হয়। কিন্তু আবারও দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হয় আমেরিকা নাখোশ ছিলো এই প্রকল্প নিয়ে। আমেরিকার নাখোশ হওয়া ও বিভিন্ন কারণে জিয়াউর রহমান সাহেবও নিহত হন। ১৯৭৭-১৯৮৬ পর্যন্ত সময়ে “মেসার্স সোফরাটম” মতামত দেয় রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন যৌক্তিক।
১৯৯৫ সালের ৭ মে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেটা থেমে যায়।
এরপর ১৯৯৭ সালে আবারও ওয়াজেদ মিয়া একাই এটা পুনরুজ্জীবিত করেন। বাকি ইতিহাস সবার জানা। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে ওয়াজেদ মিয়া এই প্রকল্প চালুর আবেদন করেন এবং শেখ হাসিনার সরকার অনুমোদন দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেয় এবং এটি সফলতার মুখ দেখে । যদিও এখানেও আমেরিকা ও দেশীয় আমেরিকান এ্যাক্টিভিস্টরা অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কিন্তু থামাতে পারেনি।
কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকে শেষ দিন পর্যন্ত আমেরিকা নাখোশ ছিলো এবং সবরকম ষড়যন্ত্র করেছে।
আমেরিকাকে বন্ধু ভাবার কারণ নেই। আমেরিকা কেন ? জিও পলিটিক্সে কেউ স্থায়ী মিত্র বা শত্রু নয়। এখানে স্বার্থই মূখ্য। আমেরিকা, ভারত, চীন, পাকিস্তান কেউ স্থায়ী বন্ধু নয়। সবাইকে ব্যালান্স করে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
( আমার এই লেখাটি রাজনৈতিক লেখা নয় ইতিহাসের পাতা থেকে নেওয়া একটা সত্য ধারাবাহিক ইতিহাস। তাই দয়া করে কেউ রাজনৈতিক মন্তব্য করবেন না )
লেখা- রেজা মৃধা

Don`t copy text!