মো: আতাউর রহমান সরকার , মতলব (চাঁদপুর): জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে নিজের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মো. জালাল উদ্দিন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের গত সাত মাসে নিজের নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি।
জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়ার কারণে কাজের হিসাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে উল্লেখ করে এমপি জালাল বলেন, মহান সংসদে তিনি সবসময় মতলবের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের চাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন এবং জবাবদিহিতার জায়গায় সবসময় পরিষ্কার থাকতে চান।
গত সাত মাসের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সমগ্র দেশের পাশাপাশি চাঁদপুর-২ আসনেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যোগ্যদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পাইলট প্রকল্পের সফলতার পর উপজেলা পর্যায়েও এটি দ্রুত যুক্ত হবে। অন্যদিকে, কৃষকদের জন্য সরকারের কৃষি কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে বর্তমানে পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ চলছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং বিষয়টি নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর সাথেও কথা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩৫ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই ভবন নির্মাণের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতলব সফরকালে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। চরাঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য মতলব উত্তর ও দক্ষিণে মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, যার সমীক্ষার কাজ বর্তমানে চলছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মতলব উত্তর ও দক্ষিণে রাস্তা পাকা ও মেরামত, ব্রিজ, কালভার্ট, বাজার উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সোলার প্যানেল নির্মাণের জন্য কয়েকশ কোটি টাকার ডিপিপি (DPP) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কালীপুর ও হাঁপানিয়া এলাকার ভাঙন রোধে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চলতি মাসেই খাল খননের জন্য ৬০ কোটি টাকা এবং ক্যানেলে স্ল্যাব বসানোর জন্য ৮০ কোটি টাকার টেন্ডার হবে। এর বাইরে নতুন করে আরও ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে সুযোগ পেলেই তিনি মতলব-গজারিয়া সেতু বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরছেন।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এমপি জালাল উদ্দিন জানান, উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় ভালো এবং রাজনৈতিক কোনো সহিংসতা নেই। তবে ভৌগোলিক কারণে মাদক একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ানোয় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বন্যা মোকাবিলায় ১১টি নতুন ভবনের সুপারিশ, ৩৫০টি ব্রিজ-কালভার্টের আবেদন এবং রাস্তা মেরামতে আরও ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রয়েছে বলেই আজ জনগণ যেকোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি একটি মাদকমুক্ত ও উন্নত মতলব গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

