সাগর চন্দ্র স্বপন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে মনপুরা রেস্টুরেন্টের নতুন শাখার উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশীয় খাবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আর্থিক সংকটে থাকা অসহায় প্রবাসীদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালিকপক্ষের সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ ইউসুফ ও মোহাম্মদ সাইফুল। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ফাহিম, মোশাররফ, বাহার, সিরাজ হুজুর, মোহাম্মদ সাহেদসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক নাম **AJMIR RESTAURANT L.L.C.**। নতুন শাখার উদ্বোধন উপলক্ষে অতিথিদের জন্য আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পদের খাবার। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবানি গরুর মাংস ছিল অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় ভাত, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, ডাল, মাছ ও মুরগির মাংসসহ দেশীয় খাবার।
প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ তুলে ধরার পাশাপাশি এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তার ঐতিহ্য ফুটে ওঠে।
**অসহায় প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ**
রেস্টুরেন্টের নতুন শাখা উদ্বোধন উপলক্ষে মালিকপক্ষের অন্যতম মানবিক উদ্যোগ হলো, আর্থিক সংকটে থাকা এবং খাবার কিনতে অসুবিধায় পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনামূল্যে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা।
বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ইউনিটি—ইউএইর সাধারণ সম্পাদক ও প্রবাসী সাংবাদিক মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন রনির এক প্রশ্নের জবাবে মালিকপক্ষ জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির সংকট ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক প্রবাসী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষ আরও জানায়, ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি দোকান চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে চান তাঁরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে মানবিক দায়িত্ব পালনের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আর্থিক সংকটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপকৃত হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

