ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ অক্টোবর ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী স্বজনকে নিয়ে পুনর্বাসনের অপেক্ষায় অসহায় এক পরিবার

প্রতিবেদক
Sagar Chandra
অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

মোঃ হামিদুল ইসলাম
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দোলেনা বেগমের পরিবার যেন দীর্ঘদিন ধরে এক কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে আসছে। স্বামী রমজান আলী, স্থানীয়ভাবে যিনি ‘বইলা পাগলা’ নামে পরিচিত। তাদের দুই ছেলে দেলোয়ার ও দানিয়েল এবং দুই মেয়ে ওর্জিনা ও রঞ্জিনা। পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে দোলেনা বেগম ছাড়া স্বামীসহ চার সন্তানই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংসার চালানোর জন্য অন্যের কাছে সাহায্য চেয়েই কোনোভাবে দিন কাটে তাদের। ছয় সদস্যের এই পরিবারের নিত্যদিনের অভাব-অনটন কতটা কষ্টের—তা সবচেয়ে ভালো বোঝেন দোলেনা বেগমই।
কয়েক বছর আগে জুম্মার পাশে ক্রস বাঁধের গা ঘেঁষে ছোট দুটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন তারা। কিন্তু তিস্তা নদীর ভাঙনে সেই শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হয়ে যায়। এরপর সমাজের কয়েকজন বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা ও নিজেদের জমানো সামান্য অর্থ দিয়ে পাশেই একটি জায়গা কয়েক বছরের জন্য অস্থায়ী চুক্তিতে নিয়ে একটি বাংলা ঘর তুলে সেখানে বসবাস শুরু করেন তারা।
বর্তমানে সেই অস্থায়ী আশ্রয়টিও অনিশ্চয়তার মুখে। চুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসায় দোলেনা বেগমসহ পুরো পরিবারটি আবারও কোথায় যাবে—এই চিন্তায় দিশেহারা।
সম্প্রতি সকালে দোলেনা বেগমের সঙ্গে দেখা হলে তিনি অসহায় কণ্ঠে বলেন, “ভাই, তোমরা আমাদের জন্য কিছু না করেন। তোমরা কিছু কইলে হামার ব্যবস্থা হইবে।” তার এই আকুতি যেন অসহায় একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুরই প্রতিচ্ছবি।
দোলেনা বেগমের বর্তমান ঘরটির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন রাজারহাটের ‘কমরেড’ নামে পরিচিত বন্ধু শফিকুল ইসলাম। তিনি আরও একজনের সহযোগিতায় পরিবারটির জন্য এই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া বন্ধু খন্দকার আরিফ কয়েকবার পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। রাজারহাটের শিক্ষক জাকির প্রভাষক ঈদসহ বিভিন্ন বিশেষ সময়ে কয়েকবার তাদের নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
তবে বর্তমানে সবার আর্থিক অবস্থাই নানা কারণে সংকটের মধ্যে রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে এই পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় দোলেনা বেগমের পরিবারের জন্য সরকারি পুনর্বাসনই হতে পারে স্থায়ী আশ্রয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। তাই অসহায় এই ছয় সদস্যের পরিবারের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
তিস্তার ভাঙনে সর্বস্ব হারানো এই পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ ঘর শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়—এটি হতে পারে তাদের নতুন করে বেঁচে থাকার একটি আশার ঠিকানা।

Don`t copy text!