উজ্জ্বল কুমার সরকার
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামবাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী রাধাষ্টমী সারা দেশের ন্যায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া সরকারপাড়া গ্রামের মনসা মন্দিরে নানা আয়োজনে শনিবার ও রোববার মন্দিরে মন্দিরে ও বাড়িতে বাড়িতে পালিত হয়েছে।
ভক্তরা উপবাস থেকে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে রাধারানীর প্রতি ভক্তিভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাধাষ্টমী উপলক্ষে মন্দির ও বাড়িতে বিশেষ পূজা-অর্চনা, প্রদীপ প্রজ্বলন, কীর্তন, নামসংকীর্তন, ভজন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী ভক্তরা রাধারানীর চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভাদ্র মাসের শুক্ল অষ্টমী তিথিতে শ্রী শ্রী রাধার আবির্ভাব ঘটে। রাধার জন্মস্থান হলো মথুরার বর্ষাণা (বারসানা)। ভাদ্র মাসের শুক্ল অষ্টমী তিথিতে রাজা বৃষভানু ও তাঁর স্ত্রী কীর্তিদার কোল আলো করে স্বর্ণপদ্মে শ্রীরাধা তাঁদের ঘরে এসেছিলেন। রাধাষ্টমী বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পবিত্র রাধাষ্টমী পালন করলে মানুষের সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। রাধাষ্টমীর দিনটিকে রাধারানীর জন্মদিন হিসেবে পালন করেন সনাতন সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ।
রাধাষ্টমীর দিন রাধারানী ও শ্রীকৃষ্ণের পূজা করলে মনের কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয়। ঘরের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য রাধাষ্টমীর দিন মন্ত্র পাঠ করা হয়; এতে পরিবারে সুখ ও সৌভাগ্য নেমে আসে। রাধাষ্টমীর দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানীকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিভিন্ন রকমের ফল ও প্রসাদ নিবেদন করা হয়।
রাধারানীর রয়েছে ১০৮টি নাম। ‘রা’ শব্দটি এসেছে রমণ শব্দ থেকে, যার অর্থ আনন্দ বর্ধনকারী। ‘ধা’ শব্দটা এসেছে ধারণ থেকে—যিনি আনন্দ ধারণ করে থাকেন তিনিই হলেন রাধা। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে রাধার গভীর আত্মিক সংযোগ তাঁকে নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতীক করে তুলেছে। পবিত্র হিন্দু গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, কৃষ্ণকে পাওয়ার জন্যই আত্মার ব্যাকুল সংগ্রাম।
রাধার অটল প্রেম সংসার চক্রে পথহারা আত্মাদের মুক্তির জন্য পরমেশ্বরের কাছে সুপারিশ করার শক্তি জোগায়। এই শুভ দিনটি ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসে, নেতিবাচকতা দূর করে এবং যাঁরা এটি নিষ্ঠার সাথে পালন করেন তাঁদের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধির সূচনা করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
রাধাষ্টমীর দিন নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দ নির্জলা উপবাস রাখেন এবং রাধারানীর পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেন। भगवान শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ পাওয়ার আশায় একমনে ও একধ্যানে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করা হয়। সনাতন ধর্ম মতে, রাধাষ্টমীর ব্রত পালন করলে সকল পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রাধাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি মানুষের জীবনে ভালোবাসা, শান্তি, সহমর্মিতা ও ভক্তির শিক্ষা দেয়।
ভক্তরা মনে করেন, রাধা-কৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে চললে সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। উৎসবের এই পুণ্য তিথিতে তাঁরা দেশ, জাতি ও বিশ্বের সকল মানুষের শান্তি, কল্যাণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি কামনা করেন।

