এ.এস.এম হামিদ হাসান
কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে সরকারি সহায়তা নিয়ে এসেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মাগরিবের পর জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের বাড়িতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
এ সময় নিহত বাচ্চু মিয়ার মা ফাতেমা বেগম ও স্ত্রী জোছনা নিহতের লাশ দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। আমরা আপাতত তাদের পরিবার ও তিন ছেলেমেয়ের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। এগুলো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা। ফ্লাইট শিডিউল পাওয়া গেলে শীঘ্রই লাশ দেশে পৌঁছাবে।’বাংলাদেশ ভ্রমণ
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া গেলে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট ভাতা দেবে সরকার। এছাড়াও পরিবারটি সরকারি ভাতার আওতায় আসবে।’ তাদের জন্য একটি জায়গার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রবাসীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ— আমেরিকার স্থাপনা রয়েছে এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি। ফেসবুকে হামলার ছবি ও ভিডিও প্রচার না করার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সব দেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: জালাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসলাম মোল্লা, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবণী আক্তার তারানা, ওসি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে নিহত হন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের রইস উদ্দিনের ছেলে মো.বাচ্চু মিয়া। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
সৌদিতে নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারে মন্ত্রীর সমবেদনা ও অনুদান—স্থায়ী বাসস্থানের আশ্বাস
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার বাড়িতে পৌঁছান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার রাতে জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের মাঝে ৩ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি পরিবারটির স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নিরাপদ থাকার জায়গার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মো. জালাল উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ রোববার সৌদি আরবের আল খারিজ শহরের একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাচ্চু মিয়াসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।

