মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে সাধারণ রোগের চিকিৎসা, গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার কথা। তবে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর জোতবানী ইউনিয়নের কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নির্ধারিত সময়েও বন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে বিভিন্ন সময়ে গিয়ে দেখা যায় কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।পলিগংগাপুর কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে বন্ধ পাওয়া যায়।ভেলারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১০টা ২১ মিনিটে বন্ধ দেখা যায়।আমাইল কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১১টা ০৪ মিনিটে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।জোতমাধব কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ সময় চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক বন্ধ থাকায় তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সাধারণত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আমাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) হুমায়ুন কবির এর কাছে ক্লিনিক বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে বলেন,
“আপনাকে ঐ চাকরি দেয় নাই ভাই, আপনি কি বলেন এগুলা? আপনাকে কি দায়িত্ব দিয়েছে।”
স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, ওই ক্লিনিকে সেবা নিতে গেলে মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়।
এছাড়া পলিগংগাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের CHCP বজলুর রশিদ এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিরামপুর শহরে তার ব্যক্তিগত ফার্মেসিতে সময় দেন, ফলে নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিক খোলা থাকে না বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন আমি নির্ধারিত সময়ে এসে থাকি আজকে দেরি হয়েছে এরকম আর হবে না।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো গ্রামীণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

