জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা এনপিএস (ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি)-এর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সভাপতি মোঃ আমিনুর শেখের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এবং বানোয়াট ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রচারের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচকোহানীয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আকিমুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আমিনুর শেখের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ এবং একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগ ও ভিডিওকে কেন্দ্র করে কিছু স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন এবং কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে তা প্রচারিত হয়।
এ বিষয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই বৈঠকে উভয় পক্ষসহ কয়েকজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় জানা যায়, কয়েকদিন আগে মোসাম্মাৎ সেলিনা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে মোঃ আমিনুর শেখের একটি বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তারা দুজনেই একই সংগঠন এনপিএস (ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি)-এর কমিটিতে কাজ করতেন।
বিষয়টি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে জেলা সভাপতি সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার সরাসরি সেলিনা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় সেলিনা বেগম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ চান না এবং বিষয়টি এখানেই শেষ করার অনুরোধ জানান।
পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, সেলিনা বেগমের বাড়ির নিকটবর্তী বাসিন্দা আকিমুদ্দিনকে দিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে ডেকে এনে একটি মিথ্যা অভিযোগ ও ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রদান করানো হয়। সামাজিক বৈঠকে উপস্থিত অনেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সেখানে পরিষ্কার হয়ে যায়। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী পুরো আলোচনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেছেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী মোঃ আমিনুর শেখ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, মোঃ আকিমুদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুল্লাহর কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ সুপার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়ায় যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় গণমাধ্যমকর্মী মোঃ আমিনুর শেখ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।
তার বক্তব্যে তিনি আরও দাবি করেন, তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তার বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে রয়েছেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে প্রথমদিকে সংগঠনটির জেলা সভাপতি সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার ও কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল ইসলাম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা কর্মসূচি দেননি। তবে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর সংগঠনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার সংগৃহীত তথ্য গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠান। একই সঙ্গে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান তারা।
গোপন সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় কিছু অদৃশ্য রাজনৈতিক মহল—বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতার সমর্থন থাকতে পারে, যারা এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আমিনুর শেখকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ অতীতে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী হিসেবে আমিনুর শেখের কার্যক্রমে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সর্বশেষ, মিথ্যা অভিযোগ ও বানোয়াট সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে একতরফা সংবাদ প্রকাশ এবং আইনি হয়রানির মাধ্যমে একজন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোঃ আমিনুর শেখ, স্থানীয় সুশীল সমাজ, দায়িত্বশীল সাংবাদিকবৃন্দ এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ও সদস্যরা।

