মো: আতাউর রহমান সরকার, মতলব উত্তর প্রতিনিধি:-
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার একলাসপুর ইউনিয়নের কালীগাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী একলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং মতলব উত্তর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জানান, রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরার পর প্রতিদিনের মতো উঠোনে অবস্থান করছিলেন। পরে ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদে উঠলে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
ঘটনার পর তিনি পুলিশকে খবর দেন। কিছুক্ষণ পর বাড়ির সামনে একটি পলিথিন মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সেটিতে হাত দেননি। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্যাকেটটি খুলে একটি সাদা কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আতর, আগরবাতি, একটি হুমকিমূলক চিরকুট এবং দুটি ‘চকলেট বোমা’ উদ্ধার করে। আলামতগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া চিরকুটে হুবহু লেখা ছিল—
‘তুই যা খাওযার খাইয়া লইস, যা করার কইরা লইস, তুই আগুন নিয়ে খেলছত, হাত তো তোর পুরবই, চাইছিলাম তোরে কাফন ছাড়া দাফন দিমু, কিন্তু না উপরের নির্দেশে তোকে কঠিন থেকে কঠিন মৃত্যু দিমু, তাই আজ তোর বাড়িতে পায়ের ধোলু দিয়ে গেলাম, কখনো ভাবিনি তোর সাথে এমন এমন হবে।
যে রাস্তা দেখায় তার সাথেই গাদ্দারি করস, মুরুবিব মানছস, চেয়ারম্যান হইছস পরবর্তিতে চেয়ারম্যান তো দূরের কথা চাকদার ও হতে পারবি কি না সন্দেহ, আর তোর জানাজা মানুষ পরতে পারে কিনা এবং তোর বডি মানুষ খুঁজে পায় কি না তা সন্দেহ, তোর জন্য আমার একটা সৈনিকই যথেষ্ঠ। ইতি বুঝে নিস সাবধান!’
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মুন্না ঢালী বলেন, “এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি চকলেট বোমাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

