বাইজিদ মন্ডল, দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Intensive Revision ) কাজ ঘিরে রাজ্যে বিতর্ক ক্রমশ দানা বাঁধে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের সাধারণ রাজ্য সম্পাদক ড: জাহান আলী পুরকাইত এর নাম। জাহান আলী পুরকাইত কে এসআইআর শুনানির নোটিশ দিল নির্বাচন কমিশন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটার তালিকা ও পূর্বের ভোটার তালিকা অনুযায়ী বাবার নামে অমিল রয়েছে। অর্থাৎ, গণণা ফর্মে ভুল তথ্য প্রদান করা হয়েছে ৷ বর্তমানে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ৩রা ফেব্রুয়ারি দুপুরে তাঁকে কেশিলি বরকতিয়া হাই মাদ্রাসায় গিয়ে হাজিরা দিতে হয় ৷সেখানে গিয়ে হিয়ারিং এ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড: জাহান আলী বলেন, “এটা বাঙালির স্বাধীনতার লড়াই ৷ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হেনস্থা করার জন্যই এই নোটিশ। আমার বাবা-মা সকলেরই নাম 2002 সালের এসআইআর তালিকাভুক্ত,তাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অক্ষম। পেশায় অধ্যাপক জাহান আলী রায়দিঘি কলেজের। তিনি বর্তমানে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের সাধারণ রাজ্য সম্পাদক।এবার তাঁকে এসআইআর -এর শুনানিতে বৈধ নথি নিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। তিনি আরো জানান, জনগণকে হয়রানির মধ্যে ফেলে সরকার নিজের দূর্নীতি ও ব্যর্থতা ঢাকতেই এই এস আই আর। শুনানির হাজিরায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখে পরিষ্কার হয় এস আই আর এর ধর্ম ও লিঙ্গগত দিকগুলো। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার কমানোর বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে নির্বাচনে তাদের নির্নায়ক ভূমিকা বিলুপ্ত করতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মহিলাদের থেকে পুরুষ ভোটারদের বেশি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত এই এস আই আর ব্যবস্থা সংশোধনের চেয়ে আরো বেশি ত্রুটি পূর্ণতায় ভরিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ড. পুরকাইত। জনগণকে লড়াই করার বার্তা দিয়ে তিনি সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণের পরামর্শ প্রদান করেন আজ তাঁর মগরাহাট পশ্চিম বিধান সভার কেঁশিলী বরকতিয়া হাই মাদ্রাসা শুনানি কেন্দ্রে।
ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন নিয়মিত ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ করে থাকে। তবে এবারের এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও বিশিষ্টজনের কাছে নোটিশ যাওয়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।এসআইআর-এর নোটিশ থেকে বাদ যায়নি বাংলার তাবড়-তাবড় মানুষেরাও ৷ সরকারি কর্মচারী ও মন্ত্রী থেকে শুরু করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা ‘ভারতরত্ন’ অমর্ত্য সেনকেও ৷ এদিন SIR হিয়ারিং লাইনে দাড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বছর ৮০ র সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের সরকারের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকার মানুষজন এই নোটিশ পেয়েছেন, তাদের হয়রানি করানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে তথ্য রয়েছে তবুও আমাদের নোটিশ এসেছে।

