ঢাকাশনিবার , ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বকশীগঞ্জে স্থলবন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় বেকার ৮ হাজার শ্রমিক!

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৩:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মনিরুজ্জামান লিমন, বকশীগঞ্জ(জামালপুর)প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে তিন মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে পাথর আমদানি। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পরেছে বন্দরে

কাজ করা প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক। ফলে পেশাজীবি শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান পাথর আমদানিতে লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আমদানি বন্ধ করেছেন।

তবে শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা।

ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর

সীমান্তে লোকাল কাস্টমস (এলসি) স্টেশনটি চালু হয় ১৯৭৪ সালে। পরে ২০১৫ সালের ২১ মে

পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপ পায় ধানুয়া কামালপুর এলসি স্টেশন। বর্তমানে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর লক্ষে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।

ধানুয়া কামালপুর বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় সাত থেকে আট হাজার শ্রমজীবী মানুষ বন্দরে হোটেল, পাথর ভাঙা ও ট্রাক শ্রমিকের পেশায় নিয়োজিত হয়। কিন্তু নিয়মিত পাথর আমদানি না হওয়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বন্দরের কার্যক্রম।

এই বন্দর দিয়ে ৩৪ টি পণ্যের আমদানির সুযোগ থাকলেও শুধুমাত্র পাথর আমদানি

করা হয়। কিন্তু নানা কারণে এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানিও বন্ধ রয়েছে। গত তিন

মাস ধরে পাথর আমদানি পুরোপরি বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় অংশে কাঁচা রাস্তা  এবং নানা অস্থিরতা ও পাথর আমদানির জন্য প্রতিবন্ধকতা থাকায় সম্ভব হচ্ছে না পাথর আমদানি। বন্দরে অতিরিক্ত শুল্ক এবং অতিরিক্ত চার্জ আদায় বন্ধ করা হলে আবারো পাথর আমদানি শুরু করতে চান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন দেশের অন্য বন্দরগুলোতে সব ধরণের সুবিধা থাকলেও এই বন্দরে সেগুলো নেই। এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় খাঁ খাঁ করছে পুরো বন্দর। পড়ে রয়েছে শতশত পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন। আর বন্দরে পাথর আমদানি না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের প্রায় ৮ হাজার পাথর ভাঙা ও ট্রাক শ্রমিক। এতে করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তাই দ্রুত সকল জটিলতা দূর করে বন্দরের কার্যক্রম চালুর দাবি তাদের।

পাথর ভাঙা শ্রমিক মনু মিয়া বলেন, আমদানি বন্ধ থাকায় আমরা পাথর ভাঙা শ্রমিকরা অতি কষ্টে জীবন যাপন করছি, আমাদের পেশায় হলো পাথর ভাঙা এখন অন্য কোন কাজও করতে পারছি না এখন আমরা অসহায় হয়ে পরেছে, ঠিকমত বাজার করতে পারছি না, কিস্তি চালাতে পারছি না, সমিতির অফিসার প্রতিদিন বাড়িতে এসে চাপ দিচ্ছে টাকার জন্য। আমাদের দাবি অতি তারাতারি যেন পাথর আমদানি শুরু হয়।

আমদানি- রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল সেতু বলেন, “বিভিন্ন কারণে এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাথরের সাথে আসা মাটির শুল্ক এবং অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ না করা হলে আমদানি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আমদানি বন্ধ থাকায় সাত থেকে আট হাজার শ্রমিক সহ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও বন্দর রক্ষায় শুল্ক বিভাগকে ছাড় দিতে হবে। সমস্যাগুলো সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সমস্যা সমাধান করে দ্রুত আমদানি চালুর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন, এটিই আমাদের দাবি।

স্থলবন্দর রাসস্ব কর্মকর্তা প্রীতিময় কান্তি বড়ুয়া 

রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় অংশে ভাঙা সড়ক আর তাদের বন্দরে কিছু সমস্যা

অবিলম্বে ধানুয়া কামালপুর স্থল বন্দরে পাথর আমদানি চালু করতে শিগগিরই উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Don`t copy text!