ঢাকামঙ্গলবার , ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অভিযোগ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আটক
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া
  7. আলোচনা সভা
  8. ইতালি
  9. ইতিহাস
  10. এক্সক্লুসিভ নিউজ
  11. কক্সবাজার
  12. কচুয়া
  13. কবিতা
  14. কিশোরগঞ্জ
  15. কুড়িগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মতলব উত্তরে খাল খননের নামে ‘পুকুরচুরি’, নিষ্কাশন সংকটে ৫০০ হেক্টর জমি

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো: আতাউর রহমান সরকার ( মতলব উত্তর প্রতিনিধি) :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা–ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাল খননের নামে দায়সারা কাজ দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ লোপাট করা হচ্ছে, যার ফলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার ব্যাসদী ও খাককান্দা রাজু’র কান্দি মৌজার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ডি–১/২ খাল পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘদিন পলি জমে নাব্যতা হারানো খালটি পুনরুদ্ধার করে কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা।

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খননের নামে কেবল এক পাশের কিছু গাছগাছালি পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বেকু দিয়ে মাত্র দুই-এক বালতি মাটি উত্তোলন করা হয়েছে। খালের অপর পাশের জঙ্গল, পলি ও মাটি পুরোপুরি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। অনেক স্থানে খালের তলদেশ পর্যন্ত স্পর্শই করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত অর্থে কোনো কার্যকর খনন কাজ না করেই বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও একই খালে প্রায় ২ কিলোমিটার ২০০ মিটার পুনঃখনন করা হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ও কাজের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে তা আগের কাজের তুলনায় ১০ শতাংশ অগ্রগতিও হয়নি। অনেক কৃষকের মন্তব্য, “এই খাল খনন করা আর না করা—দুটোই সমান।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই খালটির মাধ্যমে ঘনিয়ার পাড়, দুলালকান্দি ঠাকুরচর, ছৈয়ালকান্দী, মালারকান্দি, ওটারচর, তালতলী, খাককান্দা, রাজু’র কান্দি ও ঝিনাইয়া, আবুরকান্দি গ্রামের প্রায় ৫০০ হেক্টর কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। ফলে খালটি ওই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি জীবনরেখা হিসেবে বিবেচিত।

তারা বলেন, খালটির মাঝখানের অংশে খনন না থাকলে কিংবা অসম্পূর্ণভাবে খনন করলে কালিপুর পাম্পের পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত হবে না। এতে করে পুরো প্রকল্পের সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে না। মাঝখানে খনন না থাকলে পানি আটকে যাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করবে।

এ বিষয়ে মেঘনা–ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন পাউবো বিভাগের কার্যসহকারী সামিদুল ইসলাম বলেন, “খাল খননের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই।”
অন্যদিকে উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম মিয়া জানান, “এখানে মাটি কাটার বরাদ্দ কম ছিল, সে কারণে কম মাটি কাটা হয়েছে।”

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের প্রশ্ন, বরাদ্দ যদি কমই হয়ে থাকে, তাহলে খাল পুনঃখননের নামে কেন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলো? তারা মনে করেন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর পর খাল পুনঃখননের সুযোগ পেয়েও যদি এভাবে ‘পুকুরচুরি’ করে দায়সারা কাজ করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

স্থানীয়দের জোর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি নামমাত্র নয়, পুরো খালটি একটানা, পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে পুনঃখনন করে কালিপুর পাম্পসহ সম্পূর্ণ নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তা না হলে সরকারের এই প্রকল্প কৃষকদের কোনো উপকারে আসবে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

Don`t copy text!