রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি। সিরাজুল ইসলাম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জেলেদের প্রতিবাদী র্যালি ও সমাবেশ।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জেলেদের প্রতিবাদী র্যালি ও সমাবেশ।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে জেলেদের জিম্মি করে নৌ পুলিশের চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী র্যালি ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় জেলেরা। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় কালকিনি ইউনিয়নের নাসিরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নতীর তীরে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘নৌ পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করো, সিন্ডিকেট ভেঙে দাও, বিকাশে চাঁদা আদায় চলবে না, জেলেদের হয়রানি বন্ধ করো’- এমন স্লোগানে র্যালিতে অংশ নেন জেলেরা। র্যালিটি নদীর তীর থেকে শুরু হয়ে নাসিরগঞ্জ ও হাজিগঞ্জ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভূক্তভোগী জেলে দিদার হোসেন, হারুনুর রশিদ ও আলাউদ্দিন মাঝি। তারা নৌ পুলিশের হাতে বারবার হয়রানির শিকার হওয়ার হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেন। চাঁদা ও হয়রানি বন্ধ করে জেলেদেরকে নদীতে নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান।
দিদার বলেন, আমরা নদীতে মাছ শিকার করতে গেলে নৌ পুলিশ প্রথমে আমাদেরকে ধরে। পরে দুই হাত পিছনে বেঁধে মুক্তিপণ দাবি করে। ২০ হাজার টাকা না দিলে চালান দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে আমরা চড়া সুদে টাকা নিয়ে নৌ পুলিশকে দিতে বাধ্য হই। এমন চাঁদাবাজির শিকার হাজার হাজারও জেলে।
ভুক্তভোগী হারুন মাঝি বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ করে জাল ও নৌকা কিনে এই মেঘনা নদীতে যাই জীবন জীবিকার জন্য। অথচ নৌ পুলিশ আমাদেরকে আক্রমন করে জিজ্ঞাসা করে এখানে কত টাকার সম্পদ? ২ লক্ষ টাকার সম্পদ হলে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে জলদস্যু হিসাবে চালান করে দিবে বলে নৌ পুলিশ।
আরেক ভুক্তোভোগী মাঝি আলাউদ্দিন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, নৌ পুলিশ আমার জীবনটা ধ্বংস করে দিয়েছে। এসময় তিনি তার পায়ে নৌ পুলিশের কোপের ক্ষতচিহ্নটি দেখিয়ে বলেন, আমার সংসারটা ধ্বংস করে দিয়েছে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আবদুজ জাহের আরেফি ও মাওলানা ইব্রাহীম। জেলেদের ওপর এ অবিচার বন্ধ করে নদীতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফরিদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। এটা আামাদের সংশ্লিষ্ট না।
এ বিষয়ে রামগতি বড়খেরী নৌ পুলিশের ফাড়ি ইনচার্জ মো.শফিকুল ইসলামের বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

