নিজস্ব প্রতিবেদক ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন নিয়ে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ২৩ নভেম্বর (রবিবার) বিকেল ৪টায় দূতাবাস মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের বর্তমান কর্মপরিবেশ, পেশাগত সুযোগ-সুবিধা, ভিসা জটিলতা, পরিবারকে দেশে রেখে কাজ করার মানসিক চাপসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জানান, আমিরাতের স্বাস্থ্যখাতে বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। ফলে আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে হলে চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সহযোগিতা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী যৌথ সংগঠন গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংগঠনটি চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং প্রবাসীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বক্তারা মত দেন।
এ ছাড়া প্রবাসীদের কল্যাণে প্রতি সপ্তাহে একদিন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা যায় কি না—সেমিনারে সেই বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি বিশেষ সহায়তা হবে।
সেমিনারে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকার এবং আবুধাবি দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যখাতে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ ধীরে ধীরে সমাধান হবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি, সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। বিশেষ অতিথি দুবাই কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান, দূতাবাস কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন রানো, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এবং এশিয়ান হসপিটাল চট্টগ্রামের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ডা. সালাউদ্দিন আলী।
এ ছাড়া সেমিনারে আমিরাতে কর্মরত বহু বাংলাদেশি চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাই মিলে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সহজতর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

