মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়নের চুউরিয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়া সরকার বাড়িতে নিজস্ব জমিতে সীমানা নির্ধারণ করতে বাঁশের বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওঠে নানা বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয় ইটালি প্রবাসী কাউসার আলমের স্ত্রী নাসরিন আক্তার তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না এবং তাদের সন্তান স্কুলে যেতে পারছে না বেড়া দেওয়ার কারণে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
১৫ নভেম্বর সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টির বাস্তবতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর দাবি থেকে ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট (১০৪৫) দাগের ৯ শতক জমি সম্পূর্ণই আবুল কাশেমের মালিকানাধীন। সীমানা নির্ধারণের অংশ হিসেবে তিনি নিজ জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। এখানে কোনো সরকারি জায়গা বা চলাচলের রাস্তা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
বরং জানা যায়, ইটালি প্রবাসী কাউসার আলমের পরিবারিক চলাচলের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিলো তাদের বড় ভাই নূরমোহাম্মদের কারণে। পরে স্থানীয় ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান কারিমার নেতৃত্বে ১৪ অক্টোবর নূরমোহাম্মদের বাড়ির পাশের দেয়াল ভেঙে সেই পারিবারিক রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। ফলে প্রবাসীর পরিবারের চলাচল সমস্যার সমাধান হয়।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, কাউসার আলমের বাড়ি থেকে চার–পাঁচ ফুট চওড়া একটি পারিবারিক রাস্তা ইতোমধ্যে সরকারি রাস্তায় যুক্ত রয়েছে। যা আগে নূরমোহাম্মদের কারণে বন্ধ থাকলেও বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাচলযোগ্য।
জমির মালিক আবুল কাশেম বলেন, জমিটা আমাদের নিজস্ব। সীমানা নির্ধারণের জন্যই বেড়া দিয়েছি। পরে টিন বা দেয়াল দিয়ে স্থায়ীভাবে দিবো। প্রবাসী কাউসারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই, আমরা পাড়াপ্রতিবেশী।
এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী নাসরিন আক্তার জানান, উনারা তাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছেন। ওই দিকে আমাদের কোনো রাস্তা নেই। আমাদের পারিবারিক রাস্তা তো ভাসুর বন্ধ করে রেখেছিলেন, এখন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা এসে রাস্তা খুলে দিয়েছেন। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।
এলাকাবাসী বলেন, আবুল কাশেম তার নিজ জায়গায় সীমানা দেবেই। এখানে কোনো সরকারি রাস্তা নেই। প্রবাসীর চলাচলের রাস্তা ছিলো তাদের পারিবারিক ঝামেলার কারণে বন্ধ, এখন তা সমাধান হয়ে গেছে। এ বিষয় এ প্যানেল চেয়ারম্যান কারিমা সহ স্হানীয়রা জানান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সরেজমিন তদন্তে সেটি পরিষ্কার হয়েছে ।

