সুভাস দাস,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।
পটুয়াখালী মরিচবুনিয়া ইউপির বাজারঘোনা পয়েন্ট’র খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলার মোসাঃ আসমা বেগম, স্বামী-আবদুর রাজ্জাক’র অজানা তথ্য এখন জেগে উঠেছে। সুত্রে জানা গেছে, এ ডিলারের অনুকূলে চলতি বছরের আগষ্ট মাসে ৩৮৫ জন ভোক্তার বিপরীতে ৩০ কেজি হারে মোট ১১.৫৫০ মেঃ টন চাল বরাদ্দ হয়। এর পর গোপন সুত্রের বরাদে চলতি বছরের ২৮ তারিখ বিকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলা খাদ্য অফিসে খবর যায় উক্ত ডিলারের স্বামী আবদুর রাজ্জাক এ ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্র হতে ১টি অটোযোগে কয়েক বস্তা চাল নিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছেন।
পরে উক্ত সংবাদ পেয়ে এ ডিলারের স্বামী আবদুর রাজ্জাকের কাছে বিষয়টির সত্যতা সম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলে সুত্রে জানা যায়। তখন তিনি চাল অন্যত্র নিয়ে যাবার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি উক্ত খাদ্য অফিসার কে বলে সুত্রে জানা যায়। এমনকি তাকে চাল দোকানে ফেরত নিয়ে যেতে বলেন এ খাদ্য কর্মকর্তা বলে সুত্রে জানা যায়। এছাড়াও উক্ত অফিসার তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ান হইয়া তাকে সেখানে থাকতে নির্দেশ দেয় বলে সুত্রে জানা যায়। অন্যদিকে এ খাদ্য অফিসার তাঁর বিক্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাকে দেখতে পাইনি বলে সুত্রে জানা যায়। তখন উপস্থিত লোকজন উক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক কে জানায় আব্দুর রাজ্জাক একটি অটোযোগে অনেক বস্তা চাল দোকান থেকে বের করে নিয়ে যায় এবং একটু আগে পুনঃরায় আবার দোকানে চাল গুলো ফেরত এনে দোকান তালাব্ধ করে পালিয়ে গেছে বলে সুত্রে জানা যায়। অপর দিকে এসময় আশেপাশের দোকানদার ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে দোকান থেকে চাল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা ও ফেরত আনার ঘটনার সত্যতা পায় এ খাদ্য অফিসার বলে সুত্রে জানা যায় এবং আর এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র উক্ত খাদ্য কর্মকর্তা তখন পান বলে সুত্রে জানা যায়।
এছাড়াও তখন এ খাদ্য কর্মকর্তা উক্ত দোকানটি পৃথক একটি তালা লাগিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে সুত্রে জানা যায় এবং এ সার্বিক বিষয়টি তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে অবহিত করেন বলে সুত্রে জানা যায়। সুত্রে আরও জানা গেছে, তারপর কেন এবং কি উদ্দেশ্যে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল অটোযোগে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য পটুয়াখালী সদর উপজেলা খাদ্য অফিস কর্তৃক গত ৩১ আগষ্ট ২০২৫খ্রি. তারিখের ২৬৯ নং স্মারকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয় এবং নোটিশের জবাব ৩ দিনের মধ্য দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয় বলে সুত্রে জানা যায়। কিন্তু এ ডিলারের প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাক উক্ত কারণ দর্শানো নোটিশ গ্রহণ করেননি এবং এ বিষয়ে লিখিত কোন ব্যাখ্যা প্রদান করেননি বলে সুত্রে জানা যায়। চালের সঠিক হিসাব পরীক্ষা ও পরিদর্শন করার জন্য তাঁর নিকট ভোক্তার মাষ্টার রোল চাওয়া হলে তিনি সেটা খাদ্য অফিসে জমা প্রদান করেননি বলে সুত্রে জানা যায় । উক্ত ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার জনৈক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, জানান যে, আগষ্ট ২৫ মাসে চাল বিক্রয়ের সময় ডিলার বা ডিলারের কোন প্রতিনিধি তাকে কোন প্রকার অবহিত করেননি এবং তার কাছ থেকে চাল বিক্রয়ের অনুমতি গ্রহণ করেননি বলে সুত্রে জানা যায়।
সুত্রে আরও জানা গেছে, এ ডিলারের প্রতিনিধি আবদুর রাজ্জাকের কার্যকলাপ এবং স্থানীয় জনগণের বক্তব্য ও ভিডিও চিত্র থেকে প্রতিয়মান হয় তিনি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিক্রয় কেন্দ্র হতে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল অন্যত্র পাচার/কারচুপির চেষ্টা করেছেন বলে সুত্রে জানা যায়। এক সমিক্ষায় জানা গেছে, এ ডিলার হিসেবে নিয়োগকালে তিনি ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ১৩ টি শর্ত সম্বলিত একটি অঙ্গীকার নামা স্বাক্ষর করেছেন বলে সুত্রে জানা যায়। এ অঙ্গীকার নামার কয়েকটি শর্ত নিম্নে তুলে ধরা হল, অঙ্গীকার নামার ৭ নম্বর শর্তে বলা আছে” কোন অবস্থাতেই আমি কোন প্রকার অনিয়ম/কারচুপি করবনাঃযে কোন অনিয়মের জন্য আমি আইনত দন্ডনীয় থাকব।
অঙ্গীকার নামার ৮ নম্বর শর্তে বলা আছে” ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/কর্মচারীকে বরাদ্দকৃত মালামাল পরিদর্শনের জন্য ও হিসাবাদি পরীক্ষার জন্য সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকব।” অঙ্গীকার নামার ১৩ নম্বর শর্তে বলা আছে” এই অঙ্গীকার নামার কোন শর্ত/শর্তাবলি ভঙ্গ করলে কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় প্রয়োজনবোধে (বিনা নোটিশে) আমার জামানত সরকারি খাতে বাজেয়াপ্ত করতে পারবে এবং আমার অনুকূলে বরাদ্দ বাতিল বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বা ডিলারশীপ বাতিল বা কালো তালিকাভুক্ত করতে পারবে।
এমতাবস্থায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী নীতিমালা-২০২৪ এর ৮.১ এবং অঙ্গীকার নামার ১৩ নং শর্তানুসারে অঙ্গীকার নামার ৭ ও ৮ নং শর্ত ভঙ্গের কারণে এ ডিলারের ডিলারশীপ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়।

