আব্দুল মতিন মুন্সী, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সাতৈর ইউনিয়নের রামদিয়া গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য— তাঁর এই পদ প্রাপ্তিকে ঘিরে এক শ্রেণির ব্যক্তি ও মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে রুপাপাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, যিনি সোনা মিয়া নামে পরিচিত, তাঁকে ওই পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশের একটি পরিচিত গণমাধ্যম আমার দেশ পত্রিকাও তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি ‘ডিবি হারুনের ক্যাশিয়ার এখন বিএনপি নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে, যেখানে রুপাপাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (সোনা মিয়া)-এর নাম ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পত্রিকার এ তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বা সম্পাদক যদি ন্যূনতম যাচাই-বাছাই করতেন, তবে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকত না।
এছাড়া একই সংবাদে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ পদেও ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। বাস্তবে বিএনপির প্রকৃত কোষাধ্যক্ষ হলেন কয়ড়া মন্দির কমিটির নেতা অমিত সাহা। কিন্তু প্রতিবেদনে অন্য এক অমিতকে তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদেও এক যুবলীগ নেতার নাম প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। পরে জানা যায়, সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এসব বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, আমার দেশ পত্রিকার মতো একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের কাছ থেকে জনগণ সবসময় দায়িত্বশীল সংবাদ প্রত্যাশা করে। কিন্তু কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ শুধু সাংবাদিকতার মানকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং এটি নৈতিকতারও চরম লঙ্ঘন।
তাঁরা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বপূর্ণ পেশা। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে একতরফা সংবাদ পরিবেশন করা পেশাগত নীতিবিরুদ্ধ। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের উচিত ছিল উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা।
স্থানীয় সচেতন মহলও এই সংবাদ প্রকাশকে দায়িত্বহীনতা বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা পত্রিকাটির কাছে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

