কমল পাটোয়ারি,মীরসরাই (চট্টগ্রাম)প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানার আলোচিত সাঈদ হত্যা মামলার দুই আসামি শাকিব ও ইমাম হোসেনকে ১ বছর পর গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে সহায়তা করে র্যাব-১১। গত বছরের ১৩ আগস্ট জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড় এলাকার পাদদেশ থেকে এক ব্যক্তির খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জোরারগঞ্জ থানার সোনাপাহাড় এলাকার পাদদেশ থেকে এক যুবকের খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের পরিবার জানান, এটি নিখোঁজ সায়েদ আলম প্রকাশ সাঈদ (৩৫)-এর লাশ। ৫ আগস্ট থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলার তদন্তে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিএনএ পরীক্ষার সহায়তা নেয়। অবশেষে চলতি বছরের ১১ আগস্ট এজাহারভুক্ত আসামি মো. ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তিনি প্রথমে হত্যার কথা স্বীকার করেননি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটি জানাজানি হয় তাঁর শ্বশুর মো. জসিমের কাছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে পুরো হত্যার নেপথ্য কাহিনি প্রকাশ করেন।পরবর্তীতে র্যাব–১১-এর সহায়তায় ১৫ আগস্ট নোয়াখালীর চাটখিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অপর আসামি মো. শাকিবকে (২১)। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাকিব স্বীকার করেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই তিনি সায়েদ আলমকে হত্যা করেছেন।জবানবন্দিতে শাকিব জানান, সায়েদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। তবে সায়েদ তাঁকে চুরির অপবাদে মারধর করেন এবং একবার তাঁর শিশু সন্তানকে আটকে রেখে শাশুড়ির কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। এতে তাঁর মনে গভীর ক্ষোভ জন্ম নেয়।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন রাত ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ির খামারে ইমামের মাধ্যমে সায়েদকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে মাদক সেবনের একপর্যায়ে সায়েদ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে শাকিব পেছন থেকে ধারালো রামদা দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এতে সায়েদের একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাঁকে আবার কোপ দেন শাকিব। এ সময় ইমাম হোসেন তাঁর গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর দুজন মিলে লাশ বস্তায় ভরে সোনাপাহাড় এলাকায় ফেলে রাখেন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম বলেন, “দীর্ঘ তদন্তের পর এ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

