সংখ্যালঘুদের উপর একের পর এক হামলা/ চলেছে দেখার কেউ নেই।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান সহিংসতা, হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক – রাজীব চন্দ্র সাহা এক বিবৃতিতে বলেন, “ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে বারবার আমাদের সংখ্যালঘু ভাইবোনদের উপর যে নির্মম আঘাত হানা হচ্ছে, তা শুধু তাদের উপর নয়, গোটা মানবতার উপর আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি যশোরের অভয়নগরে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ক্ষত এখনো শুকায়নি, তারই মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আবারও একই কায়দায় হামলা চালানো হলো সংখ্যালঘু পরিবারের উপর। একটি গোটা গ্রামের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, নগদ অর্থ, গয়না, মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংসের মাধ্যমে এক ভয়াবহ বার্তা দেওয়া হয়েছে—এই দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে।”
রাজীব চন্দ্র সাহা বলেন, “এই হামলা কেবল ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা নয়, এটি সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার উপর সরাসরি হামলা। রাষ্ট্র ও সমাজকে এখনই জেগে উঠতে হবে। যারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে এইসব বর্বরতার জন্ম দিচ্ছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।”
তিনি ছাত্র সমাজ, মানবাধিকার কর্মী, এবং সাধারণ জনগণকে এগিয়ে এসে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। “ধর্মীয় উসকানি ও গুজব ছড়িয়ে নিরীহ মানুষকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে কাল আরও ভয়াবহ দিন দেখতে হবে।”
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট সকল স্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ায় এবং দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়।
“এখন নীরব থাকার সময় নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলার সময়। একসঙ্গে না দাঁড়ালে, একে একে হারিয়ে যেতে হবে আমাদের অস্তিত্ব।”

