মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
কমলাপুর থেকে সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেসে সাংবাদিকের উপর হামলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে চাঞ্চল্য
গত বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫, বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে ঘটে এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় হামলার ঘটনা। কমলাপুর থেকে সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে আসন (সিট) নিয়ে বিরোধের জেরে ট্রেনযাত্রী মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি তরফদার মামুনের উপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের সম্মুখে।
কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সঠিক নিয়মে টিকিট নিয়ে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রা শুরু করি। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন সাংবাদিক সহযাত্রী হিসেবে ছিলেন।
অন্যদিকে, মারুফ, যিনি এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নামার কথা ছিল, তিনি সঠিক সিট বুঝে না নিয়ে জোরপূর্বক অন্যের সিট দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং সিলেটি যাত্রীদের নিয়ে কটূ ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে থাকেন।
এক পর্যায়ে মারুফ, মেরাজ এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা একজোট হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনের সম্মুখে সাংবাদিক তরফদার মামুনের উপর বেপরোয়া হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধারালো স্টেপিং দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
ট্রেনে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তাঁর মাথায় সিটি স্ক্যান অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।
হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ ফইরতলা এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
বি বাড়িয়া রেল স্টেশনের এই বর্বর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ এবং জনগণ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও, বি বাড়িয়া রেলওয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জেলা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সুশীল সমাজ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

