বাংলার অধিকার ডেক্স :
রাজধানীতে রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছে,
স্বামীবাগ আশ্রম থেকে রথযাত্রাটি জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট, দোয়েল চত্বর হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় শুক্রবার অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) স্বামীবাগ আশ্রম এ উপলক্ষে নয় দিনের অনুষ্ঠান সাজিয়েছে, যেখানে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন ও ধর্মীয় নাটকসহ নানা আয়োজন রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে অগ্নিহোত্র যজ্ঞের পর পর্যায়ক্রমে ভাগবতীয় আলোচনা এবং বিকাল ৩টায় স্বামীবাগ আশ্রম থেকে রথযাত্রা শুরু হবে।
সেটি জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট, পল্টন মোড়, প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, হাই কোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল ও পলাশী হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
উদযাপনের নবম দিন শনিবার উল্টোরথ যাত্রা শুরু হবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একই পথে পুনরায় ইসকনের স্বামীবাগ আশ্রমে রথযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।
রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রার মধ্যবর্তী এক সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের সূচি প্রকাশ করেছে স্বামীবাগ আশ্রম কর্তৃপক্ষ।
সনাতন ধর্মগুরুদের মতে, দুই ভাই কৃষ্ণ ও বলরামের কাছে একবার বোন সুভদ্রা নিজ নগর ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বোনের ইচ্ছা পূরণের জন্য দুই ভাই মিলে বিশাল রথ প্রস্তুত করেন এবং সেগুলোয় চড়ে তিনজনই নগর ভ্রমণে বের হন। মাঝপথে গুন্ডিচায় মাসির বাড়িতে যান তারা। সেখানে সাত দিন অবস্থান করেন। নবম দিনে নগর ভ্রমণ শেষ করে পুরীতে ফিরে আসেন।
তারপর থেকে প্রতি বছর তিন ভাইবোন রথে নগর ভ্রমণে যান এবং তাদের মাসির বাড়ি গুন্ডিচা মন্দিরে যান। বলরামের রথ সামনে, বোন সুভদ্রার রথ মাঝখানে এবং জগন্নাথের রথ থাকে পেছনে। সেখান থেকেই প্রতিবছর আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এ রথ উৎসব পালন করা হয়।
ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১২৮টি রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগমে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতায় এবারও সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে রথযাত্রা হবে।”
স্বামীবাগ আশ্রমের এ অধ্যক্ষ বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এবারও স্বামীবাগ মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। স্বামীবাগ আশ্রমে টানা নয়দিন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান চলবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দির হতে উল্টোরথের মাধ্যমে স্বামীবাগ আশ্রমে আসলে সমাপ্তি ঘটবে।”

