পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যাচেষ্টা মামলায় উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজের ভাতিজা এনামুল হক ওরফে আলকাস মোল্লাসহ চারজনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ১৭.০৫.২৩ইং তারিখ রোজ বুধবার মামলার ১০ আসামি পটুয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং ছয়জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী (এপিপি) বশিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় এমপি সমর্থকরা বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় গত ২ এপ্রিল বগা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ দিদারুল ইসলাম বাদী হয়ে আ স ম ফিরোজ এমপি'র ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির মোল্লা এবং ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ওরফে আলকাস মোল্লাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২৫/৩০ জনের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
যাহার মামলা নং- ০৩ তারিখ- ০২/০৪/২০২৩। উক্ত মামলা ১৪ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে কয়েক সপ্তাহের আগাম জামিন গ্রহণ করেন। জামিনে মেয়াদ শেষ হলে বুধবার ১০ জন আসামি পটুয়াখালী চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জামাল হোসেনের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। এসময় আদালতের শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত এনামুল হক ওরফে আলকাস মোল্লা, সফি হাওলাদার, মাসুম বিল্লাহ লিমন ও মোঃ মোহনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন এবং ফয়সাল আহম্মেদ ওরফে মনির মোল্লা, পঙ্কজ দাস, রাজিব দাস, সজিব দাস, মোঃ সোহেল ও মোঃ আরিফের জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, বাউফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। পৃথকভাবে এসব গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল, বাউফলের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ স ম ফিরোজ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার।